ফরিদগঞ্জ ব্যুরো:
নিজের খরিদকৃত সম্পত্তি বুঝে নিতে স্থানীয় ভাবে ব্যর্থ হওয়ার পর আদালতের আশ্রয় নেয় ভুক্তভোগী। আদালত স্থানীয় ভাবে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ফরিদগঞ্জ থানার ওসিকে রিসিভার নিয়োগ করে। কিন্তু আদালতে ভুল তথ্য দিয়ে জবর দখলকারীরা রিসিভার উঠিয়ে নিজেরাই তর্কিত সম্পত্তিতে দিনেরাতে কাজ করে পাকাস্থাপনা নির্মাণ শুরু করে। ফলে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী দ্বিতীয় বার আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত আবারো ওই সম্পত্তির উপর ওসিকে রিসিভার নিয়োগ দেয়। আদালতের নিদের্শনা অনুসারে গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকালে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে রিসিভারের সাইনবোর্ড ও লাল নিশানা টানিয়ে দিয়ে আসে। যদিও রাতের অঁাধারে প্রতিপক্ষরা আদালতের নিদের্শনা অমান্য করে তর্কিত সম্পত্তির উপর টানানো লাল নিশানা উঠিয়ে ফেলেছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদু:খিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের লড়াইচর গ্রামের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরদু:খিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের লড়াইর চর মৌজার বিএস চুড়ান্ত খতিয়ান ৫৯৭/৭২৮, যাহার দাগ নং ৬৯৮/৬৯৯ নালিশী ভূমি। এ ভূমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ২০২৩ সালে সাবেক ইউপি সদস্য ও বিরামপুর বাজারের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান স্থানীয় বাসিন্দা মৃত আনা মিয়ার বড় ছেলে লেদু মিয়া’র কাছ থেকে ৫৯৭ নং খতিয়ানের ৬৯৯ দাগে ৪ শতক, ৭০০ দাগে ৪ শতক, ৭১২ দাগে ২ শতক, ৭১৩ দাগে হিস্যানুযায়ী সাড়ে ৩ শতকসহ মোট ৪টি দাগে ১৩.৫০ শতক ও ৭২৮ নং খতিয়ানের ৬৯৮ দাগে ৭ শতক এবং ৫৯৩ নং খতিয়ানের ৭০০ দাগে ৯.৫০ শতক মোট ৩০ শতক জমি ক্রয় পরবর্তিতে ভোগ দখলে করছেন।
কিন্তু স্থানীয় একটি কুচক্রি মহলের ইন্ধনে ২০২৪ সালে মৃত আনা মিয়ার আরেক ছেলে শাহাবুদ্দিন ওরফে সফি উল্লাহ’র কাছ থেকে মো. সাইফুল ইসলাম তালুকদার ৭২৮ খতিয়ানে ৬৯৮ দাগে ৩ শতক ৫৯৭ খতিয়ানে ৬৯৯,৭০০,৭১১,৭১৪সহ মোট ৪ দাগে ৭শতক ভূমি ক্রয় করে ৬৯৯ দাগে জোড় পূর্বক ভোগ দখল করতে উঠেপড়ে লাগে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সাইফুল ইসলাম গং দ্বারা জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের পায়তারার অংশ হিসেবে ইতিপূর্বে ফলজ ও বনজ গাছ কেটে লুটপাট, সন্ত্রাসীদের উপস্থিতিতে ভবণ নির্মাণ কাজ করছে।
সর্বশেষ ভীতসন্ত্রস্থ মিজানুর রহমান সর্বশেষ গত ৩০ নভেম্বর বিজ্ঞ আদালতের দ্বারস্থ হলে (দঃ মোঃ নং-১৪৩৩/২৫ ইং এর মামলা নালিশী সম্পত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারা জারি করেন। পরবর্তিতে রিসিভার নিয়োগ করেন।
কিন্তু প্রতিপক্ষরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিষেধাজ্ঞাকৃত জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রাখায় ভুক্তভোগীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৪৫(৪) ধারার বিধান মতে নালিশী ভূমিতে স্থিতিবস্থাসহ রিসিভার নিয়োগ করে বিজ্ঞ আদালত।
গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকালে রিসিভার ফরিদগঞ্জ থানার ওসির পক্ষে থানা পুলিশ তর্কিত ভুমিতে রিসিভার নিয়োগের সাইনবোর্ড ও লাল নিশানা টানিয়ে আসেন।
এব্যাপারে ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান বলেন, এক সম্পত্তি নিয়ে তিনি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রতিপক্ষ সাইফুল ৭টি দাগে জমি কিনে খারিজ করেছেন দুই দাগে। আবার এখন একদাগে জোরপূর্বক পাকা ভবন নির্মাণ করছেন। আমি আইনের আশ্রয় নিতে আদালতের দারস্থ হলে আদালত ওই সম্পত্তিতে রিসিভার নিয়োগ করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ আদালতে ভুল তথ্য প্রদান করে রিসিভার উঠিয়ে নিজেরাই আদালতের নিদের্শনা অমাণ্য করে পুনরায় ভবন নির্মাণ শুরু করে। ফলে দ্বিতীয় দফায় আমি আদালতে আবেদন করলে আদালত দ্বিতীয় বার ওসি ফরিদগঞ্জকে রিসিভার নিয়োগ করেন। গত ১০ ডিসেম্বর আদালত রিসিভার নিয়োগ করলেও প্রতিপক্ষরা এই আদেশ অমান্য করে নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখে। ফলে থানা পুলিশ গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার তর্কিত সম্পত্তিতে রিসিভার নিয়েেোেগর সাইনবোর্ড ও লাল নিশানা টানিয়ে আসে। কিন্তু রাতেই তারা লাল নিশানা সরিয়ে ফেলে।
এব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার এসআই হেলাল উদ্দিন জানান, বিজ্ঞ আদালতের নিদের্শনা অনুসারে আমরা লড়াইচর গ্রামের নালিশী সম্পত্তিতে রিসিভার সাইনবোর্ড ও লাল নিশানা টানিয়ে দিয়ে এসেছি।