সহ আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে এবারও চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ সাদ্রা দরবার শরীফসহ জেলার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে আগাম পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন হচ্ছে।
সকাল ৯ টায় সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের পীরজাদা আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী।
সকাল সাড়ে ৮টায় সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আরেকটি জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এই জামায়াতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের পীরজাদা আরিফুল্লা চৌধুরী।
পাশের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের টোরামুন্সীরহাট বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রধান ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহমান।
সরেজমিন দেখাগেছে মুন্সীরহাট মসজিদে ঈদ জামাতে সকাল থেকে লোকজন নামাজ আদায় করার জন্য আশপাশের গ্রাম থেকে প্রস্তুতি নিয়ে আসে। ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে মুন্সীরহাট বাজারে বসেছে বিভিন্ন খেলনা ও খাবারের দোকান। শিশু-কিশোরদের আনন্দ করতে এবং খেলা কেনায় ব্যস্ত দেখা যায়।
ঈদের নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লী মো. ইউসুফ বলেন, তাদের পূর্ব পুরুষরা সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ ও রোজা পালন করে আসছেন, তারাও সেই পথ অনুসরণ করছেন।
আরেক মুসল্লী মির্জা আব্বাস উদ্দিন বলেন, শিশু সন্তানদের নিয়ে এসেছেন ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে। একদিন আগে রোজা রাখায় তাদের ৩০ রোজা পূর্ণ হয়েছে। তিনি দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
এদিকে মুন্সীরহাট বাজারের পূর্ব পাশে টোরা ঈদগাহ্ ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে সকাল সোয়া ৯টায় আরেকটি ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মো. বরকত উল্যাহ। এই ঈদের জামায়াতেও কয়েক শতাধিক মুসল্লী নামাজ আদায় করেন।
সাদ্রা দরবার শরীফের পীরজাদা আরিফুল্লা চৌধুরী জানান, ১৯২৮ সাল থেকে তারা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং পবিত্র রমজানের রোজা রেখে আসছেন। প্রথমে এসব ঈদের জামাতের লোকজন কম হলেও এখন সারা বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় ঈদ উদযাপন হচ্ছে।
সাদ্রা দরবার শরীফের মুসল্লী ইয়াহিয়া চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ যাচাই বাছাই পূর্বক আফগানিস্তান, মালির চাঁদ দেখার সংবাদ ব্যাপক প্রশ্নবিদ্ধ ও সন্দেহজনক পাওয়ায় আমরা তা গ্রহণ করিনি। এমতাবস্থায় সন্দেহের উপর রোযা ভেঙে ঈদ করা যায় না। যার ফলে রমজানের ৩০পূর্ণ করে আজ শুক্রবার ঈদ উদযাপন করছেন তারা।
আগাম ঈদ উদযাপন করা গ্রামগুলো হচ্ছে-হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপপুর, বাসারা, ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর, মতলব উপজেলার দশানি, মোহনপুর, পাঁচানী এবং কচুয়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামের আংশিক।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ১৯২৮ সাল থেকে সাদ্রা দরবার শরিফের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) সৌদি আরবসহ অন্য আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদ্যাপনের প্রথা চালু করেন। এ ছাড়া তাঁর অনুসারীরা চাঁদপুর সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একই সঙ্গে দুই ঈদ উদ্যাপন ও রোজা পালন করে আসছেন।