চাঁদপুরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে চাঁদপুরক্লাব মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম সরকার।
তিনি বক্তব্যে বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে আমাদের যতগুলো আন্দোলন হয়েছে, সবগুলো আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যে ছিলো প্রাপ্য অধিকার নিয়ে। এটার জন্যই আমরা সকলে বার বার একত্রিত হয়েছি এবং আন্দোল-সংগ্রাম করেছি।
তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের মূল অবকাঠামো হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। যে কোনভাবে হোক আপনাদের এই কাউন্সিল সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা উচিৎ। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপনাদের বিশেষভাবে সম্মাননা দিচ্ছেন। আজকের এই আয়োজন তারই প্রমাণ।
ডিসি বলেন, নির্বাচনের পূর্বে আমি একজন ভ্যান চালকের সাথে কথা বলে দেখেছি আমাদের পরিবর্তনের বিষয়ে। তিনি একমাসে তার খাবারের কথা বলেছেন। তাতে মনে হয়েছে আমাদের এখন খাবারের অভাব নেই, পোশাকও আছে। তাহলে অভাব কীসের। রক্ত দিয়ে আমরা যে স্বপ্ন দেখেছিলাম সৎ ও মানবিক মানুষের। সেই মানবিক মানুষেরই বড় অভাব। আমি চেষ্টা করছি সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আপনাদের জন্য কাজ করার জন্য।
নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে চলছেন, তাতে আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাবে। সেই এগিয়ে যাওয়ার পথ ধরে চাঁদপুরকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। যাতে করে চাঁদপুরের চরাঞ্চল থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি মানুষ সমভাবে সেবা পান। আপনাদের সকলের সহযোগিতায় যাতে চাঁদপুর দেশের মধ্যে উদাহরণ হয়।
তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, আপনারা আপনাদের জীবনী নিয়ে লিখেন। না লিখতে পারলে অন্যের সহযোগিতা নিয়ে সত্য ইতিহাস লিখে যান। সত্য তথ্য তুলে ধরবেন। রঙিন করার প্রয়োজন নেই। এই কাজটি করার জন্য আপনাদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ রইল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রবিউল হাসান। তিনি বক্তব্যে বলেন, যে লক্ষ্য উদ্দেশ্যে এবং স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭১ সালে আপনারা যুদ্ধ করেছেন। সে স্বপ্ন কী বাস্তবায়ন হয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন আপনাদের স্বপ্ন কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে। দেশের প্রতিটি বিভাগে দুর্নীতি। এত আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা ন্যয় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। আমাদের মাঝে এখনো প্রতিহিংসা রয়েছে।
এসপি বলেন, ২৪ এর আন্দোলনের পর আমরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি, সেই স্বপ্ন নিয়ে বর্তমান নতুন সরকার কাজ করছে। আগামীতেও করবে সেই স্বপ্ন নিয়ে আমরা বাঁচতে চাই। আমাদের যে স্লোগনা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দল মত নির্বিশেষ আমরা সকলে যদি এটি ধারণ করতে পারি তাহলে অব্যশই আমরা এগিয়ে যাব।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন এর সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম. এন জামিউল হিকমার সঞ্চালনায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বক্তব্য দেন আব্দুল হামিদ মাষ্টার, সিলাজুল ইসলাম বরকন্দাজ, চাঁদপুর ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক মো. আব্দুস সামাদ খান, সদস্য সচিব ব্যাংকার মুজিবুর রহমান, যুগ্ম সদস্য সচিব ড. কাজী হাসেম।
আরো বক্তব্য দেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সদস্য সচিব মো. শাহজাহান গাজী, সদস্য সচিব মো. মো. শাহজাহান গাজী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন। আলোচনা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবারের সদস্যদের হাতে উপহার তুলেদেন।