স্টাফ রিপোর্টার:দৈনিক আদি বাংলা হাইমচর।
জনাব মোঃ মেহেদী হাসান
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় মাদকদ্রব্য সেবন ও বিক্রির প্রতিবাদ করায় চাচা-চাচিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে আপন ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি উপজেলার ৩নং আলগী দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড চরভাঙ্গা গ্রামে ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাবিয়া বেগম বাদী হয়ে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের বাদশা মিজির ছেলে হানিফ মিজি (২৮) ও আল আমিন মিজি (২৫) দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্য সেবন ও ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী হারুন মিজির পরিত্যক্ত ঘরকে কেন্দ্র করে সেখানে নিয়মিত মাদক ও জুয়ার আসর বসত বলে এলাকাবাসীর দাবি। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ত এবং স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের বিরক্ত করার ঘটনাও ঘটত।
এ অবস্থায় হারুন মিজির স্ত্রী রাবিয়া বেগম ওই ঘরে মাদক কার্যক্রমের প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টার দিকে আল আমিন ও হানিফ মিজি ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে রাবিয়া বেগমের মাথা ও রানে গুরুতর জখম হয়, যেখানে একাধিক সেলাই দিতে হয়। তার চিৎকারে স্বামী হারুন মিজি এগিয়ে এলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়, এতে তার হাতের তিনটি আঙুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এছাড়া হামলার সময় রাবিয়া বেগমের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পরও ১৯ মার্চ পুনরায় ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই ভাই হারুন মিজি ও বাদশা মিজির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল, যা এই ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, বিষয়টি পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।
এ বিষয়ে হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে। আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং দ্রুত তাদের গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।