
এই কলেজের কতিপয় শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দেওয়ানী ১৩৪/২০২৩ চাঁদপুর জেলা দায়রা জজ আদালতে জাল সনদ ও ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০০সাল পর্যন্ত তথ্য গোপন রেখে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান, রেজুলেশন ঘষা-মাজা ও স্বাক্ষর জাল করে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা অঞ্চল ও মাউশিতে ভুয়া রেজুলেশন পাঠানোর বিষয়ে মামলা হয়। মো. জাহাঙ্গীর হোসেন নামে ব্যাক্তি এসব শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তাদের এমপিও বাতিল ও স্থায়ী বরখাস্তের বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দাখিল করেন। সে আলোকে সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জাকির হোসেন পাটওয়ারী, সহকারী পরিদর্শক লিটন কান্দি দাশ ও সুমন খান ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই সকাল ১০টায় কলেজে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
তদন্তকালে অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে উপাধ্যক্ষ দীলিপ চন্দ্র দাস, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম, সহকরী অধ্যাপক এ বি এম শাহ আলম, মমতাজ বেগম, শান্তি রঞ্জন দে, ফেরদৌসি আখতার, শেখ খাদিজা বেগম, মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, প্রর্দশক (জীব বিজ্ঞান) আব্দুল মালেক মিয়া, অফিস সহকারী নন্দন চন্দ্র দে, অফিস সহায়ক শফিকুর রহমান শেখ তদন্তকারী কর্মকর্তাদের নিকট তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তাদের সকলেরই বক্তব্যই হচ্ছে এসব অভিযোগ মিথ্যা এবং সঠিক নয়।
কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তারা প্রতিবেদনের পর্যালোচনা ও মতমতে উল্লেখ করেন, ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত যে সকল কর্মচারী নিয়োগ হয়েছে তাদের মধ্যে কোন শিক্ষক-কর্মচারী তাদের নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করতে পারেননি। রেজুলেশন এবং এক্সপার্ট ডিজির প্রতিনিধি কারো স্বাক্ষর নেই। ২০০৩সালে মন্ত্রণালয়ের অডিটে জাল জালিয়াতি প্রমাণিত হয়েছে।
ছাড়পত্র থেকে জানাগেছে, বর্তমান উপাধ্যক্ষ দীলিপ চন্দ্র দাস ২০০৫ সালে বাবুরহাট কলেজ থেকে ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজে যোগদান করেন। তার ওইসব কাগজপত্র সঠিক নয়। পরীক্ষা কেন্দ্রে অনিয়ম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ী ভাংচুরের ঘটনায় দীলিপ চন্দ্র দাস প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত হওয়ার পরে অনিয়ম করে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যেক্ষর দায়িত্ব পালন করেন। শুধুই তাই নয়, তিনি এই সময় ৪ কোটি টাকা অনিয়ম করেছেন। তার অধিকাংশ বিল ভাউচারে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির স্বাক্ষর নেই। তিনি দায়িত্বে থাকালীন করোনা কালে একজন হিন্দু শিক্ষক ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে অনলাইনে ক্লাস নিয়েছেন মর্মে সম্মানি প্রদান করা হয়।
প্রতিবেদনে সর্বশেষ উল্লেখ করা হয়, সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম ও এবিএম শাহ আলম টিপু রেজুলেশন ডাব্লিং করে, ঘষামাজা করে একই রকম রেজুলেশন করেছেন। এভাবে তাদের পদোন্নতি হয়েছে মর্মে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
এছাড়াও কলেজের আর্থিক লেনদেনের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ না হওয়ায় কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্য পর্যন্ত সরকার বহু টাকা রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।