চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় প্রবাসী স্বামীর অনুপস্থিতিতে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক সংসারের করুণ পরিণতি ঘটেছে। বিদেশ থেকে ছুটিতে দেশে ফিরে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন এক প্রবাসী। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওই প্রবাসী দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানের পর প্রায় তিন মাস আগে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরেই তিনি স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়ে এক পর্যায়ে চরমে পৌঁছে যায়। পরিস্থিতির কোনো সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন ওই প্রবাসী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি বলেন, “স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। এতে করে অনেক সংসার ভেঙে যাচ্ছে। এই ঘটনাও তারই প্রতিফলন।”
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের মতে, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং অনৈতিক সম্পর্কের প্রবণতা বৃদ্ধির কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ বিবেচনা না করেই তালাক দেওয়ার বিষয়টি সচেতন মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এলাকাবাসীর একাংশ মনে করছেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার—বিশেষ করে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—এ ধরনের ঘটনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের মতে, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নৈতিক শিক্ষার চর্চা জোরদার করলেই এ সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বিচ্ছেদের পর ভুক্তভোগী নারী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে আপস-মীমাংসার চেষ্টা চলছে। সমাধান না হলে ভুক্তভোগী নারী আইনি আশ্রয় নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় পুরো শাহরাস্তি উপজেলায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সমাজকর্মীরা বলছেন, পরকীয়ার মতো অনৈতিক সম্পর্ক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।