
এককালের প্রমত্তা নদী ডাকাতিয়া নদীকে মরা ডাকাতিয়া নদী নামে দীর্ঘ দিন ধরে কৌশলে মরা ডাকাতিয়া জলাশয় নামে অভিহিত করে ইজারা দিয়ে নদীর গতিপ্রকৃতি নষ্ট করা হচ্ছে। গোপন এই কার্যক্রম সম্প্রতি এই নদীর ইজারা নিয়ে দুইটি কথিত মৎস্যজীবি সমিতির মধ্যকার দ্বন্ধে প্রকাশ হয়ে পড়ে। এই তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় প্রকৃত জেলে ও মৎস্যজীবির মধ্যে। সর্বশেষ সিআইপি কৃষক সংগ্রাম কমিটি ও মৎস্যজীবি সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করে প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অবিলম্বে এই ইজারা বাতিল করে ডাকাতিয়া নদীকে উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিদাতা তাজুল ইসলাম জানান, ডাকাতিয়া নদী জীবিত, প্রবাহমান, তাকে মরা নদী বলা অসৎ উদ্দেশ্য। নদীকে ইচ্ছাকৃত ভাবে মারা হয়, কাগজে কলমে নদীর প্রকৃতি পরিবর্তন করে প্রশাসনের যোগসাজসে নদী দখলদাররা ভূয়া সমিতে সমিতি রেজিষ্টেশন করে উম্মুক্ত জলমহালকে ইজারা নিতে তৎপর।
কিন্তু ডাকাতিয়া নদী এই অঞ্চলের ফুসফুস এবং-চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের পানি ওঠা প্রধান ক্যানেল। ফলে উন্মুক্ত ডাকতিয়া নদীকে ইজারা দেওয়া হলে তা হবে অবৈধ ও বে-আইনি। উপজেলার চররামপুর থেকে পুটিয়া এবং চরপোয়া হয়ে কালির বাজার হয়ে হর্ণি পর্যন্ত আদি বা মূল ডাকাতিয়া নদী হওয়া সত্ত্বেও তা অবৈধ ভাবে ইজারা প্রদান করায় জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় প্রতি বছরই জনগণকে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হতে হয়। অতীতেও এমন নজির দেখা গেছে প্রকৃতি পরিবর্তন করে অবৈধ ভাবে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। যা প্রকৃত জেলে মৎস্যজীবী ও নদীর দুই তীরের জনগনকে সাথে তা প্রতিহত করা হয়েছে।
তাই অবিলম্বে মরা নদীর নাম দিয়ে উন্মুক্ত ডাকাতিয়া নদী অবৈধ ভাবে ইজারা দেওয়ার অপতৎপরতা বন্ধ এবং অবৈধ ইজারা বাতিল করে জবর দখল উচ্ছেদের জোর দাবি জানান। অন্যথায় পূর্বেও ন্যায় ও জেলে মৎস্যজীবি ও দুই পড়ের জনগণকে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবের বলে হুশিয়ারি দেন।