চাঁদপুরে সরকারি বাক শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খাবারের অনিয়মসহ বিভিন্ন ধরনের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত খাবারের মেনু অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে না।
এছাড়াও দেখা যায়, সপ্তাহের সোমবার দুপুরের খাবার ও রাতে যেখানে ১০৫ গ্রাম ওজনের বড় মাছের পিস দেওয়ার কথা, সেখানে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে ৫০-৬০ গ্রাম ওজনের ছোট মাছ, যা অনেক ক্ষেত্রে সংরক্ষিত (ফ্রিজের) বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ে উপস্থিত বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা ইশারার মাধ্যমে জানান, তারা প্রতিদিন পর্যাপ্ত খাবার পান না এবং খাবারের মানও নিম্নমানের। সম্প্রতি খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষের জেরে শিক্ষার্থীরা বাবুর্চিকে মারধর করেছে বলেও জানা যায়।
এছাড়া, গত সপ্তাহে রাতে খাবারের পরিমাণ নিয়ে বিরোধের জেরে ধর্মীয় শিক্ষক কবির আহমেদ ও নৈশ প্রহরী মোঃ এনামুল হকের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে শিক্ষক কবির আহমেদের মাথা ফেটে যায় এবং নৈশ প্রহরী এনামুল হক এর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাঃ হ্যাপি আক্তার প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন, যার ফলে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাঃ হ্যাপি আক্তার অভিযোগগুলোর কিছু অংশ স্বীকার করে বলেন, তিনি বিদ্যালয়কে নিয়মের মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। তবে ছোট সন্তান থাকার কারণে সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে কিছুটা সমস্যা হয় বলেও জানান। এছাড়া, রাতে নারী হিসেবে কর্মস্থলে অবস্থান করা তার পক্ষে কঠিন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খাবারের অনিয়মের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লক্ষী নারায়ণ ভান্ডারের প্রোপাইটর ভরত চন্দ্র ঘোষের মোবাইলে একাধিক কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম
জানান, এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনার বিষয়ে আমি জেনেছি সেগুলোর বিষয়ে আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। অন্যান্য বিষয়গুলো জেনে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।