চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে মাছের প্রজেক্ট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১নং গাজীপুর ইউনিয়নের একটি চরে সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের দোসর শাহজাহান পেদার নেতৃত্বে তার ভাতিজা চেয়ারম্যান সবুজকে সঙ্গে নিয়ে এ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ এপ্রিল রাতে বেকু (খননযন্ত্র) দিয়ে জোরপূর্বক ফসলি জমি কেটে বড় আকারের মাছের প্রজেক্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি টের পেয়ে জমির মালিকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁধা প্রদান করেন। এ সময় তারা মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত বেকুর চাবি নিয়ে নেন, ফলে মাটি খননের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পরপরই বিষয়টি হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, এর আগেও শাহজাহান পেদার নেতৃত্বে তার ভাতিজা চেয়ারম্যান সাহাদাত হোসেন সবুজ সরকারি পুকুরের মাছ আত্মসাতের ঘটনায় আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। এমন কি ওই ঘটনায় বেশ কয়েকদিন জেলও খেটেছেন। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, এভাবে চরাঞ্চলের ফসলি জমি কেটে ফেললে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়বে, যা হাইমচর উপজেলার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শাহাজাহান পেদার সাথে মুঠোফনে কথা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি ইউনিয়নের রাস্তার কাজের জন্য ভেকু এনেছি। তারা ভেবেছে মাছের প্রজেক্ট করবো। সেজন্য তারা ইব্রাহিমপুর থেকে এসে ভেকুর চাবি নিয়ে গেছে। তিনি মূল ঘটনা অস্বীকার করে রাস্তার কাজের কথা বলে ঘটনাকে ভিন্ন দিকে নেয়ার চেষ্টা করলেও খবর নিয়ে জানা যায় ওই স্থানে রাস্তার কোন কাজই নেই। মূলত মাছের প্রজেক্টার জন্যই ওই চরে ভেকুটি আনা হয় স্থানীয়রা জানান।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান সাহাদাত হোসেন সবুজ বলেন, মুঠোফনে কথা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি ব্যাক্তিগত কাজের জন্য ভেকু এনেছি। তারা ভেবেছে মাছের প্রজেক্ট করবো। বিষয়টি শুনেছি ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের কাজে থাকায় কারো সাথে কথা বলতে পারি না।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমিত রায় জানান, এ বিষয়ে আমাকে একজন মুখিক ভাবে জানিয়েছে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য আমি লোক পাঠিয়েছি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ের সাথে যারা জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।