নারায়ন রবিদাস, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর):
ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের সাবেক এক সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য ও তার স্বামী প্রকাশ্যে মাদক কারবারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই দম্পতির মাদক বিক্রির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, সাবেক ইউপি সদস্য সাবিনা বেগম (ইয়াসমিন) ও তার স্বামী নূর মোহাম্মদ নিজেদের বসতঘর থেকে ক্রেতার হাতে ইয়াবা ও সেবনের সরঞ্জাম তুলে দিচ্ছেন। ক্রেতা তাদের হাতে টাকা দিচ্ছেন—এ দৃশ্য ধারণ হয়েছে ভিডিওকার্ডে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবিনা বেগম ওই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের সাবেক ইউপি সদস্য। তিনি উপজেলার মুলপাড়া গ্রামের ঈদগাঁও মিয়াজি বাড়ির বাসিন্দা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সাবিনা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সেবন করেন। টাকার প্রয়োজনে স্বামীর সেবনের জন্য রাখা ইয়াবা থেকে বাড়ির পাশের কয়েকজনের কাছে বিক্রি করেছি। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমাদের হেয় করার জন্যই প্রকাশ করা হয়েছে।’
এদিকে নূর মোহাম্মদ দাবি করেন, ‘আমি নিজে ইয়াবা সেবন করলেও বিক্রি করি না।’ মাদক সেবন অপরাধ কি না—এমন প্রশ্নের জবাব দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বলেন, ‘মাদক সিন্ডিকেট এখন খোলামেলাভাবে কাজ করছে। সাবেক ওই নারী সদস্যের বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। প্রতি মাসিক সভায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের কথা বললেও প্রশাসনের তৎপরতা নেই।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সাবিনা-নূর দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে হুমকি, ধমকি ও হামলার শিকার হতে হয়। তারা এলাকার যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছেন। ভিডিও প্রকাশের পর এলাকাবাসী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘মাদক কারবারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। সাবেক এই ইউপি সদস্য ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনার পরও প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভে ফুঁসছেন। তারা ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।