মোঃ হানিফ মিয়াজি:
শাহরাস্তি উপজেলায় প্রথমবারের মতো পা রাখতে যাচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ১৬ মে, শনিবার দিনব্যাপী সফরের শুরুতেই তিনি শাহরাস্তিতে বহুল প্রতীক্ষিত খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সাড়ে বারোটায় হেলিকপ্টারযোগে তিনি উয়ারুক হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন। সাংস্কৃতিক আয়োজনে থাকছেন কুদ্দুস বয়াতি ও সৈয়দ অমি প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সকাল থেকেই উৎসবমুখর থাকবে সভাস্থল। মঞ্চ মাতাতে আসছেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় বাউল সম্রাট কুদ্দুস বয়াতি। তাঁর সঙ্গে সংগীত পরিবেশন করবেন তরুণ কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ অমি। লোকগানের সুরে পুরো উয়ারুক এলাকা মাতিয়ে রাখার সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু ইউসুফ রুপম বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শাহরাস্তির ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। হাজার হাজার মানুষের সমাগম হবে। দর্শনার্থীদের যেন এক মুহূর্তের জন্যও ক্লান্তি না আসে, উৎসাহ-উদ্দীপনা ধরে রাখতেই কুদ্দুস বয়াতির মতো শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এটা আমাদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ।”
বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে একাধিক কর্মসূচি
দলীয় সূত্র জানায়, খাল খনন উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী উয়ারুক মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। সেখানে তিনি স্থানীয় উন্নয়ন, কৃষি, সেচ ও শাহরাস্তির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। সফরসূচিতে আরও কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রস্তুতি তুঙ্গে, মাঠে প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দ
প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে গত এক সপ্তাহ ধরে দিনরাত কাজ করছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। উয়ারুক স্কুল মাঠ ও আশপাশের এলাকায় চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা, নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কাজ। স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক নিজে প্রতিদিন সকাল-বিকাল সভাস্থল পরিদর্শন করে প্রস্তুতির তদারকি করছেন।
এমপি মমিনুল হক বলেন, “শাহরাস্তিবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি কাছে পাওয়া। তিনি কথা দিয়েছিলেন, সময় করে আসবেন। সেই কথা রাখতে তিনি আসছেন। আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। এটি একটি শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও স্মরণীয় দিন হবে।
উচ্ছ্বসিত শাহরাস্তিবাসী
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম শাহরাস্তি সফরের খবরে পুরো উপজেলায় বইছে আনন্দের বন্যা। হাট-বাজার, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামের প্রতিটি পাড়ায় চলছে আলোচনা। দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে ব্যানার, ফেস্টুন। তোরণ নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সভাস্থলে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, এপিবিএন ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।
উল্লেখ্য, দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম শাহরাস্তিতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এ সফরকে ঘিরে চাঁদপুর জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।