নুর মোহাম্মদ পাটোয়ারী :
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫নং সদর ইউনিয়নে মাদকদ্রব্যের বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সামাজিক অবক্ষয়, চুরি, কিশোর অপরাধ এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজীগঞ্জ পৌরসভার নিকটবর্তী হওয়ায় ইউনিয়নটিতে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের যাতায়াত রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি ভাসমান ব্যবসার আড়ালে মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। কেউ অটোরিকশা চালক, কেউ মৌসুমি ফল, সবজি, মাছ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রেতার পরিচয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মাদক সরবরাহ করছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, এসব মাদকের প্রধান শিকার হয়ে উঠছে এলাকার যুবক, ছাত্র ও কিশোররা। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মাদকের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, ইভটিজিং এবং বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের ঘটনাও বাড়ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, মাদকাসক্তদের কারণে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সন্ধ্যার পর অনেক পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমনকি গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে গরু চুরির ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা জনসমক্ষে এসব বিষয়ে কথা বললেও হেনস্তা ও নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা।
এ বিষয়ে সুহিলপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “মাদক আমাদের সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। যুব সমাজ দিন দিন বিপথগামী হচ্ছে। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া কঠিন।”
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, এলাকাবাসী দ্রুত মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ইউনিয়নের সামাজিক শৃঙ্খলা, ঐতিহ্য ও নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।