নিজস্ব প্রতিবেদক।। অর্থ আত্মসাৎ, চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার একাধিক মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি চাঁদপুর বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) মাঠ সংগঠক মো. ইকবাল বাহারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইকবাল বাহারের বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুরের সিআর-৭০৯/২৫ ও সিআর-৭১০/২৫ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী ইউনিয়নে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের সময় তাকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ জানান, একাধিক অর্থ প্রতারণার মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে এসআই সুমন কুমার দাস ইকবাল বাহারকে গ্রেপ্তার করেন। রোববার (২৩ আগস্ট) তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ আরও জানায়, ইকবাল বাহারের নিজ জেলা ফেনীতেও প্রতারণাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সেখানে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তাদের কাছ থেকে চেক নেওয়া হয়েছিল বলেও জানা গেছে। ফেনীর মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে চাঁদপুর জেলা বিআরডিবির সাবেক উপপরিচালক কামাল উদ্দিনের দাবি, চাঁদপুরে মাঠ সংগঠক হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ইকবাল বাহারের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায় থেকে সংগৃহীত প্রায় ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিআরডিবির পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে তদন্তে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় উঠে আসে বলে তিনি জানান।
বিআরডিবি সূত্রে জানা যায়, তদন্ত চলাকালে ইকবাল বাহার কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত বক্তব্য দেন। সেখানে মাঠপর্যায় থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৪৩ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে পরবর্তীতে তা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে কোভিড-১৯ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন খাতে মোট প্রায় ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়।
নথি অনুযায়ী, ওই অর্থ বেতন-ভাতা থেকে পরিশোধ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অফিসের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ইকবাল বাহার। তবে তার লিখিত জবাব গ্রহণযোগ্য নয় বলে চাঁদপুর সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসারের কার্যালয় থেকে জানানো হয় এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথা উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে চাঁদপুর থেকে ময়মনসিংহ জেলায় বদলি করা হয় বলে বিআরডিবি সূত্রে জানা গেছে। তবে তিনি বদলির কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে চাঁদপুরেই অবস্থান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের হাজিরা খাতায় অনিয়মতান্ত্রিকভাবে স্বাক্ষর করার অভিযোগও ওঠে। এ ঘটনায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডি নম্বর-৩৭৯, তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
এদিকে ইকবাল বাহারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর তিনি তার সাবেক অফিস সহকর্মী আব্দুল গনি ও তার স্ত্রী আফরোজা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিভিন্ন তথ্য প্রচার এবং আদালতে মামলা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও বিআরডিবি সূত্র জানিয়েছে, ইকবাল বাহারের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত