স্টাফ রিপোর্টার: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাষীয়ালী গ্রামের মো. নাছির উদ্দীনের মেয়ে নাছরুম আক্তারের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, তথ্য গোপন এবং বিয়ের নামে কাবিনের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নাছরুম আক্তার একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক স্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে ফরিদ, মাইনুদ্দিন, খোরশেদ, রফিকুল ইসলাম মন্টু, সাগর ও সাইফুল ইসলাম মাসুমসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব বিয়ের বৈধতা, কাবিননামা এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি রয়েছে।
অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, ফরিদ নামের এক প্রবাসী যুবকের সঙ্গে বিয়ের পর তার কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, ফার্নিচার ও এফডিআরসহ বিভিন্ন সম্পদ নেওয়া হয়। একইভাবে মাইনুদ্দিনের সঙ্গে বিয়ের কাবিন দেখিয়ে অর্থ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে খোরশেদ, রফিকুল ইসলাম মন্টু ও ঢাকার সাগর নামের আরও কয়েকজনের সঙ্গে বিয়ের নামে কাবিনের টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশ সাইফুল ইসলাম মাসুমকে ঘিরে। পরিবারের দাবি, মাসুমের সঙ্গে নাছরুম আক্তারের বিয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মাসুম ২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তার মৃত্যুর পর নাছরুম আক্তার পরিবারের কাছে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মাসুমের বাবা আবুল বাশার বলেন, আমার ছেলের মৃত্যুর পর আমাদের বিভিন্নভাবে মানসিক হয়রানি করা হয়েছে। স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আমি ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নাছরুম আক্তারকে বাবার বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তার ভগ্নিপতি নয়নসহ কয়েকজনকে নিয়ে তাদের বাড়িতে আসেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আবুল বাশার।
পরবর্তীতে আবুল বাশার চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানান তিনি। সেখানে নাছরুম আক্তারের পক্ষ থেকে মাসুমের সঙ্গে বিয়ের এফিডেভিট উপস্থাপন করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, এফিডেভিটে যে আইনজীবীর স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে, তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ওই এফিডেভিট প্রদান করেননি বলে লিখিত প্রত্যয়ন দিয়েছেন।
এছাড়া শাহমাহমুদপুর এলাকার এক কাজীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি কাবিননামাও উপস্থাপন করা হয় বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীর দাবি, বিষয়টি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কাজীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাবিনটি রেজিস্ট্রি করেননি বলে লিখিত প্রত্যয়ন দিয়েছেন।
এ বিষয়ে নাছরুম আক্তারের সঙ্গে কথা হলে তিনি একাধিক বিয়ের বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেন। একপর্যায়ে তিনি কয়েকটি বিয়ের কথা স্বীকার করে বলেন, “আমার আগে ৫০টি বিয়ে হলেও সমস্যা নেই। বর্তমানে আমি মাসুমের স্ত্রী।” তিনি আরও দাবি করেন, মাসুমের বাড়িতে প্রায় তিন বছর ধরে তিনি সংসার করেছেন।
তবে নাছরুম আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং কাবিননামা সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে অভিযোগগুলো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা, কথিত কাবিননামার বৈধতা এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো আইনগতভাবে তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগী আবুল বাশারের পরিবার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, হয়রানি থেকে মুক্তি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত