নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগীদের জন্য অ্যান্টিভেনম (সাপের বিষের প্রতিষেধক) কেনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতি বছর দুই শতাধিক সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের জন্য অ্যান্টিভেনমের পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় উপজেলা পরিষদ থেকে ভ্যাকসিন কেনার জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই অর্থের চেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমানের নামে ইস্যু করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ১২ অক্টোবর ডা. মাহবুবুর রহমান ভ্যাকসিন কেনার জন্য বরাদ্দকৃত চেক গ্রহণ করে সোনালী ব্যাংক ছেংগারচর বাজার শাখায় জমা দেন এবং পরবর্তীতে টাকা উত্তোলন করেন। তবে বরাদ্দের ওই অর্থ দিয়ে নতুন করে কোনো অ্যান্টিভেনম কেনা হয়নি বলে দাবি করেছেন হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের পর হাসপাতালে আগে থেকে থাকা অ্যান্টিভেনমের কয়েকটি বাক্স সামনে রেখে ছবি তুলে তা উপজেলা পরিষদে জমা দেওয়া হয়। পরে ২০২৬ সালের ৩ মার্চ ডা. মাহবুবুর রহমান বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পর বরাদ্দের ৩ লাখ টাকা ও ভ্যাকসিন কেনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবরক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে সাপে কাটা রোগীদের ভ্যাকসিন কেনার জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ওই চেকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান স্যারের নামে ছিল। বরাদ্দের ৩ লাখ টাকা দিয়ে কোনো ভ্যাকসিন কেনা হয়নি। এমনকি হাসপাতালের হিসাবেও ওই টাকা জমা হয়নি। সে সময় হাসপাতালে থাকা ভ্যাকসিন সামনে রেখে ছবি তুলে উপজেলা পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস বলেন, এত টাকার ভ্যাকসিন কেনার কোনো তথ্য হাসপাতালের নথিতে নেই। পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান কোনো নগদ টাকাও বুঝিয়ে দিয়ে যাননি। উপজেলা পরিষদ থেকে ভ্যাকসিন কেনার জন্য বরাদ্দকৃত ৩ লাখ টাকার বিষয়ে এর বেশি আমার জানা নেই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও বরাদ্দকৃত অর্থের প্রকৃত ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত