অর্থনৈতিক, সামাজিক আর রাজনৈতিকভাবে চরম ভারসাম্যহীন পৃথিবীর বুকে প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়। ‘মানুষের জন্য সাক্ষরতা, এই গ্রহের জন্য সাক্ষরতা এবং সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’—২০২৬ খ্রিস্টাব্দের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য। অন্তর্ভুক্তিকরণ, টেকসই ভবিষ্যৎ, মানুষের জীবনধারণের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আজ বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি সাক্ষরতার প্রচলিত ধারণা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তথ্য খোঁজা, সমাধান পাওয়া কিংবা বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে মানুষের কাজ ও চাকরির ওপর এর প্রভাব কী হবে, সে নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুধু অক্ষর চেনা, নিজের নাম লেখা বা সাধারণ হিসাব করতে পারাকে এখন আর পূর্ণ সাক্ষরতা বলা যায় না। শিক্ষার মান, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, তথ্য বোঝার ক্ষমতা এবং সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধও সাক্ষরতার সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। মানহীন শিক্ষার বিস্তার ঠেকানোও এই আলোচনার অংশ হওয়া উচিত।
১৯৯৩ সালে ইউনেস্কোর নির্ধারিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, ব্যক্তি নিজ ভাষায় সহজ বাক্য পড়তে ও লিখতে এবং দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ হিসাব করতে পারলে তাকে সাক্ষর বলা হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার, প্রয়োজনীয় তথ্য খোঁজা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৭০ শতাংশের বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত। তরুণদের মধ্যে এ হার প্রায় ৯০ শতাংশ। বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৮০ শতাংশের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে বলে লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ব্যবহারের জন্য ডিজিটাল দক্ষতা ও বৈশ্বিক ভাষার সঙ্গে পরিচিতি প্রয়োজন।
সাক্ষরতা মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ, মনোভাব ও আচরণ অর্জনের ভিত্তি। এটি সমতা, বৈষম্যহীনতা, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, বৈচিত্র্য ও সহনশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই সাক্ষরতা দিবসের আনুষ্ঠানিকতা কেবল সভা, শোভাযাত্রা বা সেমিনারে সীমাবদ্ধ না রেখে বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে এর উদ্দেশ্যের সমন্বয় ঘটাতে হবে।
ইউনেস্কোর হিসাব উল্লেখ করে লেখায় বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রায় ৭৩ দশমিক ৯ কোটি কিশোর, যুবা ও প্রাপ্তবয়স্ক মৌলিক সাক্ষরতা থেকে বঞ্চিত। তাদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ নারী। আরও বলা হয়েছে, প্রায় ৭৭৫ মিলিয়ন মানুষের ন্যূনতম অক্ষরজ্ঞানের অভাব রয়েছে এবং প্রায় ৬০ দশমিক ৭ মিলিয়ন শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।
সাক্ষরতা সবার মৌলিক অধিকার। ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্র থেকে বিশ্বপর্যায়ে শিক্ষা, মানবিকতা, সমতা ও ডিজিটাল দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের আয়োজন আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত