মাহ্দী আমিন বলেন, সংকীর্ণ রাজনৈতিক চিন্তা ও দলীয় দর্শনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ।
দেশের বৃহত্তর স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষ, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিভিন্ন মত ও পথকে এক ছাদের নিচে এনে দেশের স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দেওয়াই প্রকৃত গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি সংকট ও গণতান্ত্রিক পালাবদলে বিএনপির ভূমিকা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাকশাল, সামরিক শাসন এবং দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের পর বিভিন্ন সময়ে বিএনপির নেতৃত্বেই দেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাকশালের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটে। আর দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক কক্ষপথে ফিরে এসেছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার একটি প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সুষম জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। স্বাধীনতা, অখণ্ড সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আজকের মুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফসল। তাঁর দাবি, ফ্যাসিবাদী আমলে বিএনপির ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন এবং হাজার হাজার সহযোদ্ধা গুম ও শহীদ হয়েছেন। গণতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসী প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই কঠিন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, রাষ্ট্র ক্ষমতার একমাত্র উৎস এবং প্রকৃত মালিক এ দেশের জনগণ। জনগণের প্রতি শতভাগ দায়বদ্ধতা ও পূর্ণ স্বচ্ছতা নিয়ে বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনায় অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি বলেন, দেশের অগ্রযাত্রায় শুধু রাজনীতিকরা নন, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, বেসরকারি খাত এবং বিশেষ করে তরুণ ও নারী সমাজকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সম্পৃক্ত করতে হবে। তারুণ্যের অপার সম্ভাবনা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে একটি জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তের ঋণ শোধ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে কাঙ্ক্ষিত মর্যাদার আসনে পৌঁছে দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের পরিচালনায় আলোচনায় আরও অংশ নেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী, চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিক তাসনিম জারা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরুণরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত