ঘটনাটি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের উনকিলা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ঘটেছে বলে জানা গেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের বল্লার বাড়ির মো. আনোয়ার হোসেনের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে পারিবারিকভাবে সাইফুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় চার মাস পর সাইফুল কর্মস্থল মালয়েশিয়ায় চলে যান। এরপর কয়েক বছর দেশে আসা-যাওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের সংসার চলছিল।
একপর্যায়ে জান্নাতুল ফেরদৌস স্বামীর কাছে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এতে সম্মতি দিয়ে তার পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা দিতে থাকেন সাইফুল। প্রথমে কুমিল্লা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে তাকে এইচএসসি পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেন। পরে জান্নাত ঢাকার একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে সাইফুল তাতেও সম্মতি দেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
সাইফুল ইসলাম জানান, সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় প্রায় চার বছর ধরে স্ত্রীর পড়াশোনা, কোচিং ও অন্যান্য খরচ তিনি বহন করেছেন। একপর্যায়ে জান্নাতুল ফেরদৌস দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সরকারি চাকরি পেয়েছেন বলে তাকে জানান। এতে তিনি ও তার পরিবার আনন্দিত হন।
সাইফুলের দাবি, চাকরিতে যোগদানের পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারী সমিতির মাধ্যমে জমি বা প্লট কেনার জন্য এককালীন ও মাসিক কিস্তিতে অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়ে জান্নাত তাকে একটি আবেদনপত্রের কপি পাঠান। ওই আবেদনে তাকে নমিনি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানালে জান্নাত তাকে আরও কয়েক বছর বিদেশে থাকার পরামর্শ দেন। দেশে ফিরলে বিভিন্ন স্বর্ণালংকারসহ নানা জিনিসপত্র দেওয়ার দাবিও করা হয় বলে অভিযোগ তার। পরবর্তী সময়ে স্ত্রীর সঙ্গে আগের মতো নিয়মিত যোগাযোগ না হওয়ায় তার সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর গত জুলাই মাসে জান্নাতকে না জানিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে জান্নাতুল ফেরদৌস তাকে তালাক দেন বলে জানান সাইফুল।
এদিকে, তালাকের নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জান্নাতের ছোট ভাই ফয়সাল। তিনি বলেন, তার বোনের ভাষ্য অনুযায়ী, সাইফুল বিদেশে থাকাকালে তার খোঁজখবর রাখতেন না। এ কারণে জান্নাত তাকে তালাক দিয়েছেন। তবে জান্নাতের পড়াশোনা, কোচিং এবং ঢাকায় থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন ব্যয় তার বোনের স্বামীর অর্থে হয়েছে বলে ফয়সাল স্বীকার করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের পরিবারের বক্তব্য জানতে তাদের বাড়িতে গেলে তার বাবা আনোয়ার হোসেনকে পাওয়া যায়নি। তার মা সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে আড়ালে চলে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরে জান্নাতের ছোট ভাই ফয়সালের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়।
জান্নাতের চাচা, একই বাড়ির বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য মো. শাহজাহানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে পারব না। আপনি বিস্তারিত মেয়ের কাছ থেকে জানুন।”
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের সরাসরি বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সাইফুল ও তার পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রবাসজীবনে উপার্জিত অর্থে স্ত্রীর পড়াশোনা ও অন্যান্য ব্যয় বহন করার পর সরকারি চাকরি পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি তালাকের শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে স্ত্রীর কাছে থাকা প্রবাসজীবনের গচ্ছিত অর্থ ও অন্যান্য পাওনা ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সাইফুল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত