একটি উপজেলার প্রধান ও বৃহত্তম বাণিজ্যিক কেন্দ্র, প্রতিদিন যেখানে হাজার হাজার মানুষের পদচারণা, শত শত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যস্ততা, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়—সেই বাজারে একটি গণশৌচাগার (পাবলিক টয়লেট) নেই! বিষয়টি শুধু অবাক করার মতো নয়, অত্যন্ত লজ্জাজনকও বটে। হাইমচরের আলগী বাজারের চিত্র স্থানীয় নাগরিক সুবিধা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বাস্তব চিত্রটি তুলে ধরছে।
প্রকৃতির স্বাভাবিক ডাকে সাড়া দেওয়ার মতো মৌলিক সুবিধা না থাকায় আলগী বাজারের মানুষকে শৌচাগারের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে। অনেককে রোগী বা রোগীর স্বজন সেজে হাসপাতালের টয়লেট ব্যবহার করতে হচ্ছে। মানবিক কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাধা না দিলেও এসব শৌচাগার বাজারের মানুষের জন্য নির্মিত হয়নি। অতিরিক্ত ব্যবহারে সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
শৌচাগারের অভাবে কেউ কেউ খোলা ড্রেন বা রাস্তার পাশে প্রাকৃতিক কাজ সারতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি রোগজীবাণু ছড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। একটি বাজারের উন্নয়ন শুধু দালানকোঠা, দোকানপাট বা বেচাকেনার পরিমাণ দিয়ে বিচার করা যায় না; মানুষের মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাও এর গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
সংশ্লিষ্টরা জায়গা সংকটের কথা জানিয়েছেন। বাজারের জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং এর মূল্যও বেশি। সরকারি বরাদ্দে বাজার থেকে কিছুটা দূরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় শৌচাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বাজারের কেন্দ্রস্থলে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণের উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া যেত কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।
আলগী বাজারের ব্যবসায়ী কমিটির ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে অর্থ সংগ্রহ করে, সংশ্লিষ্ট মালিকের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জায়গা ভাড়া বা কিনে গণশৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিতে পারেন। প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। বাজারের বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব শৌচাগার নির্মাণের বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আলগী বাজারে নারী-পুরুষের জন্য পৃথক সুবিধাসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আধুনিক গণশৌচাগার নির্মাণ এখন জরুরি। জায়গা সংকট প্রধান বাধা হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে বসে সমাধানের পথ বের করতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত