প্রতিদিন পৌরবাসীর নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনসহ নানাবিধ নাগরিক সেবা দিলেও ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ফরিদগঞ্জ পৌরসভার আজ পর্যন্ত নিজস্ব কোনো ভবন নেই। প্রতিষ্ঠার ২১ বছর অতিবাহিত হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব জায়গা সংস্থান করতে না পারায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত জায়গায় জোড়াতালি দিয়ে চলছে ‘ক’ শ্রেণির এই পৌরসভাটির দাপ্তরিক কার্যক্রম।
পৌর কর্তৃপক্ষ ৫০ শতক জমি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সেই উদ্যোগ এগোয়নি। সম্প্রতি পৌরসভার জন্য সরকারি খাস সম্পত্তি বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় নিজস্ব ভবন পাওয়ার আশা করছেন পৌরবাসী।
চাঁদপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ ফরিদগঞ্জ পৌরসভা ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করে পরে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। ১৯.৭৫ বর্গমাইল আয়তনের এ পৌরসভায় ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী প্রায় ৪০ হাজার ৭৮৮ জন মানুষ বসবাস করেন। রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ সম্প্রসারণ ও স্ট্রিট লাইট স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন চললেও স্থায়ী প্রশাসনিক ভবন ও ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় নাগরিক সেবা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংকট রয়ে গেছে।
স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় পৌর এলাকার বর্জ্য শহরের প্রবেশমুখের মহাসড়ক ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পথচারী ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি, মশা-মাছির উপদ্রব এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থায়ী সমাধানে আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে।
বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ জিউসি টাইপের ভবনে পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। ভবনটি স্যাঁতস্যাঁতে, অপ্রশস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাদাগাদি করে কাজ করতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়। এতে জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ ও ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।
পৌর নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক মোশারেফ হোসেন ও সদস্য সচিব ইমাম হোসেন বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নিজস্ব ভবন ও স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকা দুঃখজনক।
পৌরসভা কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, বর্তমান অস্থায়ী কার্যালয়টি স্থায়ীভাবে বরাদ্দের জন্য ২০১২ ও ২০১৬ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতামত চাওয়া হলেও বিষয়টি দীর্ঘদিন নিষ্পত্তি হয়নি। চলতি বছর জেলা প্রশাসক পানি উন্নয়ন বোর্ড, চাঁদপুরকে দ্রুত মতামত ও ব্যবস্থা নিতে তাগিদ দিয়েছেন।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ সুফিয়ান খাঁন জানান, মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, নিজস্ব ভবন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জায়গা খোঁজা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত