শিশু জাতির ভবিষ্যৎ, সমাজের আশা ও দেশের আগামী দিনের কর্ণধার। তাদের মধ্যে আগামী দিনের নেতৃত্ব, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা মানে একটি জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করা। ইসলাম ধর্মও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে শিশু শুধু জৈবিক সত্তা নয়, বরং মহান আমানত; তার শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের গুরুদায়িত্ব পিতা-মাতা, সমাজ ও রাষ্ট্রের।
কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, নিজেদের ও পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা করতে। ইসলামী ব্যাখ্যায় এর অন্যতম উপায় হলো সন্তানদের সঠিক ইসলামি শিক্ষা, আল্লাহভীতি ও নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়া। ইসলামী শিক্ষা মানুষের মধ্যে ঈমান, চরিত্র, ন্যায়পরায়ণতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে।
ইসলামে শিশুর মর্যাদা ও অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, প্রত্যেক শিশু ফিতরাত বা ইসলামী স্বভাব নিয়ে জন্মগ্রহণ করে; পরে পিতা-মাতার প্রভাব তার চরিত্র ও দৃষ্টিভঙ্গিতে ভূমিকা রাখে। এ কারণে পরিবারকে শিশুর প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র এবং মাকে প্রথম শিক্ষক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শিশুদের প্রতি ভালোবাসা, মমতা ও দয়া প্রদর্শনেরও নির্দেশ রয়েছে।
ইসলামে শিক্ষা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। প্রথম ওহিতে পড়ার আহ্বান এসেছে। তবে ধর্মীয় দৃষ্টিতে জ্ঞান শুধু বিজ্ঞান, প্রযুক্তি বা সাহিত্যে সীমাবদ্ধ নয়; এমন জ্ঞানও জরুরি, যা মানুষকে আল্লাহর পরিচয়, হালাল-হারামের পার্থক্য এবং আখিরাতের প্রস্তুতি সম্পর্কে সচেতন করে।
শিশুর শিক্ষার সূচনা পরিবার থেকেই হয়। কুরআন ও হাদিসে পিতা-মাতাকে সন্তানদের নামাজ ও ধর্মীয় দায়িত্বে অভ্যস্ত করার বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে। ছোটবেলা থেকে কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া, নামাজ, আদব-কায়দা এবং নবী-রাসূলদের জীবন থেকে শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), ইমাম মালিক (রহ.) এবং লুকমান (আ.)-এর ঘটনাগুলো শিশুদের জ্ঞান, আদব ও তাওহিদের শিক্ষা দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে।
ধর্মীয় শিক্ষা শিশুর চিন্তা, আচরণ, মনস্তত্ত্ব ও নৈতিকতা গঠনে ভূমিকা রাখে। এতে ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, ন্যায়পরায়ণতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি হতে পারে। প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব, দরিদ্রকে সহায়তা এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকার শিক্ষাও শিশুকে সমাজমুখী করে।
ধর্মীয় শিক্ষার অভাবে নৈতিক অবক্ষয়, মাদকাসক্তি, প্রযুক্তি-আসক্তি, আত্মহত্যার প্রবণতা, অপরাধ ও যৌন বিকৃতির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে—এমন মত source material-এ তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব কমে যাচ্ছে বলে source material-এ উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় মক্তব ও হিফজখানার মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষার চর্চার কথাও বলা হয়েছে। পরিবারে পিতা-মাতার আদর্শ আচরণ, নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, ইসলামী গল্প ও শিষ্টাচার শেখানো গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ধর্মীয় শিক্ষা, আধুনিক পাঠদান, প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং শিশুদের উপযোগী গল্প, নাটক ও কার্টুনের কথা বলা হয়েছে। সামাজিকভাবে ইসলামি পরিবেশ, কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়া আয়োজন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে পাঠ্যক্রমে নবী-রাসূলদের জীবনী অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবও রয়েছে।
প্রযুক্তির যুগে ইসলামিক মোবাইল অ্যাপ, কুরআন শেখার ভিডিও, ইসলামি কার্টুন ও ভার্চুয়াল মক্তবের মাধ্যমে শিশুদের শেখানোর কথা বলা হয়েছে। তবে অনলাইন ঝুঁকি থেকে শিশুদের নিরাপদ রাখা অভিভাবকদের দায়িত্ব। মক্তব ইসলামী শিক্ষার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে কুরআন তিলাওয়াত, নামাজের দোয়া, আদব এবং নবী-রাসূলদের কাহিনি শেখাতে পারে।
ইসলাম আধুনিক শিক্ষার বিরোধী নয়; দুনিয়ার জ্ঞান ও আখিরাতের জ্ঞান সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়। তাই শিশুদের এমন শিক্ষায় গড়ে তোলার প্রয়োজন, যাতে তারা পার্থিব দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধেও সমৃদ্ধ হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত