নদীমাতৃক বাংলাদেশের জীবন, সংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্যের সঙ্গে নদীর সম্পর্ক চিরন্তন ও অবিচ্ছেদ্য। নদীর স্রোত, নৌকার মাঝি, ভাটির টান আর নদীপাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা যুগ যুগ ধরে সমৃদ্ধ করেছে বাংলা গান, কবিতা ও নৃত্যের ভুবন। সেই নদীকেন্দ্রিক জীবন ও সংস্কৃতিকে শিল্পের তুলিতে ফুটিয়ে তুলতে চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘ভাটির স্রোতে নদীর গান’.
বিশ্ব পর্যটন দিবস ও বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রোববার সন্ধ্যায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির বাস্তবায়নে এ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। নদী, নৌকা, মাঝি ও ভাটির জনজীবনের নানা অনুষঙ্গ নিয়ে সাজানো পরিবেশনায় শিল্পীরা গান, কবিতা ও নৃত্যের মাধ্যমে নদীমাতৃক বাংলার পরিচিত রূপ তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘কলকল ছলছল নদী বহে’ গানের সঙ্গে সম্মেলক নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এরপর নদী ও ভাটির জীবনকে ঘিরে একাধিক গান পরিবেশিত হয়। সানজিদা গান করেন ‘আমার গহীন গাঙ্গের নাইয়া’, শিহাব পরিবেশন করেন ‘উজান গাঙ্গের নাইয়া’ এবং সুভদ্রা গান করেন ‘আর কতকাল ভাসবো আমি’.
আবৃত্তি ও একক পরিবেশনার মধ্য দিয়েও নদী ও মানুষের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। মেধা আবৃত্তি করেন ‘সর্বনাশা পদ্মা নদী’ এবং ‘মেঘনার বুকে ঘর বান্ধিলাম’ সংখ্যা পরিবেশন করেন। চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান ‘নাইয়া রে, নায়ের বাদাম তুইলা’ গানটি পরিবেশন করেন।
পরের পর্বে প্রত্যাশা পরিবেশন করেন ‘কে যাস রে ভাটির গান গাইয়া’। ‘আমায় ডুবাইলি রে, আমায় ভাসাইলি রে’ গানের সঙ্গে ছিল সম্মেলক নৃত্য। মমতাজ পরিবেশন করেন ‘সে পাড়ে তোর বসতবাড়ি’ এবং রিয়া বিশ্বাস গান করেন ‘যমুনার জল দেখতে কালো’। সবশেষে ‘কই যাও রে পদ্মার ঢেউ’ সম্মেলক পরিবেশনার মাধ্যমে নদীর প্রতি মানুষের টান ও ভালোবাসা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন চাঁদপুর জেলা গণগ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান উম্মে রায়হানা ফেরদাউস। পরিবেশনা শেষে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত