শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো আনন্দঘন শিখন। ভয়, চাপ বা ভীতি ছাড়া খেলাধুলা ও আনন্দমুখর পরিবেশে শিশুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শেখে। এমন পরিবেশ শিশুদের মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি কৌতূহল, সক্রিয় অংশগ্রহণ, সৃজনশীলতা ও চিন্তন দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে।
সনাতন পদ্ধতির কড়া শাসন ও মুখস্থনির্ভর পড়াশোনা শিশুদের মধ্যে শ্রেণিকক্ষভীতি তৈরি করতে পারে। আনন্দঘন পরিবেশে তারা নির্ভয়ে মতামত প্রকাশ করতে এবং ভুল থেকে শিখতে পারে। আনন্দ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখা বিষয় দীর্ঘদিন মনে থাকে; পড়ালেখাকে খেলা বা মজার কার্যক্রম হিসেবে উপস্থাপন করলে জানার আগ্রহও বাড়ে।
প্রাণবন্ত শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক এককভাবে কথা বলেন না। ছবি আঁকা, গান, গল্প বলা, ভূমিকা অভিনয় ও দলীয় কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাঠের অংশ হয়ে ওঠে। বাধ্যবাধকতার বাইরে কাজ করার সুযোগ পেলে তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিকশিত হয়। দলগত কর্মকাণ্ড শিশুদের সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, যোগাযোগ দক্ষতা ও নেতৃত্বের মনোভাব গড়ে তুলতেও সহায়তা করে।
শ্রেণিকক্ষে আনন্দদায়ক পরিবেশ থাকলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির প্রতি শিশুদের আগ্রহ বাড়ে এবং প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়া কমাতে সহায়তা করতে পারে। শিক্ষা আনন্দময় হলে তা শিশুর কাছে বোঝা মনে হয় না এবং তাকে আজীবন শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হয়।
শ্রেণিকক্ষে পরিষ্কার নিয়ম চালু করা, প্রতিদিন সকালে পাঁচ মিনিটের সংক্ষিপ্ত আলাপন, নির্দিষ্ট তালি বা ইশারায় শান্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং ভালো কাজের জন্য প্রশংসা করা কার্যকর কৌশল হতে পারে। সবার জন্য একই নিয়ম প্রয়োগ, বাড়তি সময়ে কুইজ বা ছোট কার্যক্রম, নাম লেখা কাঠি তুলে প্রশ্ন করা, খাতায় হাসিমুখের চিহ্ন বা স্টিকার ব্যবহার এবং বোর্ডে দিনের পরিকল্পনা লিখে রাখাও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীকে ব্ল্যাকবোর্ড মোছা বা খাতা দেওয়ার মতো দায়িত্ব দিয়ে ছোট দলনেতার ভূমিকা দেওয়া হলে শ্রেণিকক্ষের প্রতি তার মালিকানাবোধ তৈরি হতে পারে। ভালোবাসা, সৃজনশীল কৌশল ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার সমন্বয়ে শ্রেণিকক্ষ হয়ে উঠতে পারে প্রাণবন্ত ও আনন্দময়।
প্রাথমিক শিক্ষায় আনন্দঘন শিখন পরিবেশ তৈরিতে শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষাদানের পাশাপাশি ভৌত অবকাঠামো ও শিখন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সারিবদ্ধ বেঞ্চের বদলে সহজে সরানো যায় এমন চেয়ার-টেবিল ব্যবহারের মাধ্যমে একক, জোড়ায় বা দলীয় কাজের উপযোগী করে শ্রেণিকক্ষ সাজানো যায়।
ব্লক ও ধাঁধা, শিল্প ও হস্তশিল্পের মতো কার্যক্রমের কোণ তৈরি করা হচ্ছে। ভূমিকা অভিনয়, ছড়াগান, শারীরিক ভঙ্গি এবং স্থানীয় ও সস্তা উপকরণে হাতে-কলমে পরীক্ষার মাধ্যমে অভিজ্ঞতাভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক শিখনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কড়া শাসনের পরিবর্তে আত্মনিয়ন্ত্রণ, ভুলকে শেখার অংশ হিসেবে গ্রহণ এবং ছোট সাফল্যের প্রশংসার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের তৈরি কাজ শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি অডিও-ভিজুয়াল কনটেন্ট, শিক্ষণীয় অ্যানিমেশন ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে কঠিন বিষয়গুলো আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগও রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত