স্টাফ রিপোর্টার : ফরিদগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পরও নিজস্ব দাপ্তরিক ভবন তৈরি করতে পারেনি। ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হলেও স্থায়ী ভবন না থাকাকে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে পৌরবাসীর হতাশার পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য সরকারের ২০ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দ থেকেও পৌরসভাটি বঞ্চিত হয়েছে।
ভবন না থাকায় শুধু একটি প্রকল্পের অর্থই হাতছাড়া হয়নি, পৌরসভার বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনাও নষ্ট হয়েছে। ২১ বছর ধরে পৌরসভার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এই পরিস্থিতি কেন বিবেচনায় নেননি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পৌরসভার মৌলিক নাগরিক সেবা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। এখনো কার্যকর ডাম্পিং স্টেশন গড়ে ওঠেনি। ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনার জন্য উপযোগী গাড়ি থাকা বা থাকলেও তা যথাযথভাবে ব্যবহার না করার অভিযোগ রয়েছে। নাগরিকদের কাছ থেকে নিয়মিত কর ও বিভিন্ন ফি নেওয়া হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো মৌলিক সেবা নিশ্চিত না হওয়ায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
নাগরিক সেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিবর্তে মেয়রদের গাড়ি-বিলাস, অফিস সজ্জা এবং বিভিন্ন ধরনের অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের অভিযোগও জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। স্থায়ী ভবনের জন্য জমি নিশ্চিত না হলেও বিলাসী ব্যয় ও দৃষ্টিনন্দন অফিসসজ্জা কতটা যুক্তিসঙ্গত, সে প্রশ্নের জবাব পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া হয়েছে।
সড়ক, ড্রেন ও অন্যান্য উন্নয়নকাজে চরম দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি তদারকি ও অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি ওঠে।
ভবন নির্মাণের জন্য ২১ বছরে পৌরসভা সামান্য জায়গাও নিশ্চিত করতে পারেনি। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার আগে ব্যবহৃত ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় চার শতাংশ জমি রয়েছে বলে জানা গেলেও নতুন জায়গা কেনা, অধিগ্রহণ বা সরকারি জমি বরাদ্দ নেওয়ার উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত জায়গা বা ভবন ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
পৌরসভা পরিচালনায় ভবিষ্যৎ ১০, ২০ বা ৫০ বছরের প্রয়োজন বিবেচনায় পরিকল্পনা করা নেতৃত্বের অন্যতম দায়িত্ব। ২১ বছর আগে দাপ্তরিক ভবনের জন্য জায়গা নির্ধারণ, জমি কেনা বা সরকারি জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু করা হলে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলে মত এসেছে।
সাবেক মেয়র, প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আমলে কেন জমি কেনা বা বরাদ্দ নেওয়া হয়নি, কেন ভবন নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়নি, কেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান হয়নি এবং উন্নয়ন ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়নি—এসব প্রশ্নের উত্তর জনসমক্ষে আনার দাবি রয়েছে।
ফরিদগঞ্জ পৌরসভাকে সাময়িক ব্যবস্থা ও জোড়াতালির ওপর না চালিয়ে নিজস্ব ভবনের জন্য উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত, জমি ক্রয়, অধিগ্রহণ বা সরকারি জমি বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে ডাম্পিং স্টেশন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত