নিজস্ব প্রতিনিধি: ধীরে ধীরে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা গণভবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ সময় আকাশে একটি বিমানের শব্দ শোনা যায়। তখন বিপ্লবীদের মধ্য থেকে কেউ বলে ওঠে, ‘প্রধানমন্ত্রী পালিয়ে গেছেন!’
উল্লাসে ফেটে পড়ে জনতা। সারা দেশে আনন্দের আবহ তৈরি হয়। মানুষ কথা বলতে, গান গাইতে, কবিতা লিখতে ও সমালোচনা করতে পারবে—এমন প্রত্যাশা জাগে।
তিন দিন দেশে কোনো সরকার ছিল না। চতুর্থ দিনে ইরফান ও তার সঙ্গীদের গণভবনে ডেকে পাঠান চাবুক সিং। তিনি ইরফানকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যদের উপদেষ্টা করার প্রস্তাব দেন।
ইরফান জানান, সরকার পরিচালনার জন্য তারা রাস্তায় নামেননি। হাজার হাজার সঙ্গীর মৃত্যুর পর তাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। ইমতিয়াজও বলেন, তারা ছাত্র; মানুষের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছেন, রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার জন্য নয়।
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ইরফান বাংলাদেশি বিজ্ঞানী আরিন তাসনীমের নাম প্রস্তাব করেন। বিদেশে থাকা আরিন তাসনীম প্রথমে রাজি না হলেও ইরফানের সঙ্গে কথা বলার পর দেশে আসতে সম্মত হন। পাঁচ দিন পর রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব দেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যোগ্য ব্যক্তিদেরও উপদেষ্টা করা হয়।
নতুন সরকার একটি ‘স্পন্দন সংবিধান’ তৈরি করে। পাশাপাশি ইরফান ও বৃষ্টি গড়ে তোলে ‘শব্দহীন বিদ্যালয়’, যেখানে শিশুদের শব্দ ছাড়াই অনুভব, বোঝাপড়া ও ভালোবাসার শিক্ষা দেওয়া হয়।
এর মধ্যে নাহার ও আরাধ নিখোঁজ হয়ে যায়। ইরফান ও তার বন্ধুরা পাহাড়, গুহা ও উপত্যকায় তাদের খুঁজলেও সন্ধান পায় না। পরে রুহান তাদের অনুসন্ধানে বের হয়। সে বিশ্বাস করে, তারা হারিয়ে যায়নি; বরং নতুন এক অভ্যন্তরীণ ভাষার স্তরে পৌঁছেছে।
হৃদয়-ভাষাকে ঘিরে মতবিরোধ দেখা দেয়। কেউ তা সংরক্ষণ করতে চায়, আবার কেউ প্রযুক্তির মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে চায়। এ সময় ‘নীরব রক্ষক’ নামে একটি গোষ্ঠী গড়ে ওঠে। তাদের ধারণা, ভাষার অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষকে আবার বিভক্ত করতে পারে।
রুহান এক গুহায় নাহার ও আরাধের প্রতীকী উপস্থিতির সন্ধান পায়। পরে শহরের ‘ধ্বনি চত্বরে’ দাঁড়িয়ে কোনো কথা না বলেও মানুষের মধ্যে অনুভবের সাড়া জাগায়। তার উপলব্ধি—ভাষা ফিরে এসেছে, কিন্তু মানুষকে এখন শিখতে হবে কীভাবে তা হারানো যাবে না।
একপর্যায়ে জামশেদ নামের এক ব্যক্তি এসে নিজেকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেয় এবং হারানো শব্দমালা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে। আকাশে ভেসে ওঠে রহস্যময় প্রতীক। একটি ছেঁড়া কাগজে জানানো হয়, নাহার ও আরাধ ফিরে এসেছে, তবে আগের মতো নয়।
শেষদিকে ইরফান ও বৃষ্টি ঘুম থেকে জেগে শিশুদের ইতিহাস পড়তে দেখে নতুন শিক্ষাব্যবস্থার কথা ভাবেন। তারা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিতে চান। তাসফিয়া, অনন্যা ও ইমতিয়াজকে নিয়ে বৈঠক ডাকলে সেখানে নাহার ও আরাধও উপস্থিত হয়। তারা জানায়, দেশ নতুন করে গড়ার ভাবনায় গুহায় ছিল।
(চলবে)
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত