নিজস্ব প্রতিনিধি: একটি খেলার মাঠ কেবল শিশু-কিশোরদের বিনোদনের স্থান নয়; এটি সুস্থ প্রজন্ম গঠন, সামাজিক সম্প্রীতি বিকাশ, নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরির অন্যতম প্রাকৃতিক শিক্ষাঙ্গন। অথচ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অবৈধ দখল, অপরিণামদর্শী স্থাপনা নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় দেশের অসংখ্য খেলার মাঠ বিলুপ্তির পথে। এ বাস্তবতায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা সময়োপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে নতুন মাঠ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া মাঠ পুনরুদ্ধার ও বিদ্যমান মাঠ সুরক্ষার ওপর।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামের একটি বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন অপসারণ করে মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে স্থানীয়দের মানববন্ধন এ সংকটের উদাহরণ। এলাকাবাসীর দাবি, নতুন ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হওয়ায় পুরোনো ভবনের জায়গা পুনর্বিন্যাস করে মাঠ ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব। বিষয়টি কারিগরি মূল্যায়ন, ভূমির মালিকানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ও জনস্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। তবে ভবন অপসারণের আগে নিরাপত্তা ও শিক্ষা কার্যক্রমের প্রয়োজন যাচাই করতে হবে।
চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে চৌদ্দ কোয়ার্টার মাঠও বিলুপ্তির মুখে। দখলদারিত্ব, ময়লা-আবর্জনা ও অপরিকল্পিত মাটি কাটার কারণে মাঠটির অস্তিত্ব হুমকিতে পড়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে ভূমির রেকর্ড যাচাই, সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্তকরণ এবং পুনরুদ্ধারের সম্ভাব্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। উদ্ধারযোগ্য হলে সেখানে নিরাপদ ও উন্মুক্ত খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে হবে।
সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত দেশজুড়ে খেলার মাঠের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও মানচিত্র তৈরি করা। ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনভিত্তিক জরিপে বিদ্যমান, হারিয়ে যাওয়া ও দখল হয়ে যাওয়া মাঠ চিহ্নিত করতে হবে। এরপর পুনরুদ্ধার ও নতুন মাঠ প্রতিষ্ঠার পৃথক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। ডিসেম্বরের মধ্যে মাঠ নিশ্চিত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে জমি শনাক্তকরণ, মালিকানা যাচাই, অর্থায়ন, নকশা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। কাগজে-কলমে মাঠ দেখানো বা অনুপযুক্ত জমিকে মাঠ ঘোষণা করা যাবে না; মাঠ হতে হবে নিরাপদ, ব্যবহারযোগ্য ও সবার জন্য সহজলভ্য।
মাঠ দখল, ভরাট বা বর্জ্য ফেলে নষ্ট করার বিরুদ্ধে নজরদারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা প্রয়োজন। কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে মাঠের জায়গা কমলে বিকল্প খেলার জায়গা নিশ্চিত করতে হবে। উদ্ধার করা মাঠের পরিচ্ছন্নতা, পানি নিষ্কাশন, সীমানা সুরক্ষা ও সরঞ্জাম সরবরাহে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। স্থানীয় জনগণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া সংগঠন, অভিভাবক, সাবেক খেলোয়াড় ও তরুণদের যুক্ত করে মাঠ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা যেতে পারে। মেয়েশিশু, প্রতিবন্ধী শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সমান অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।
খেলাধুলার সুযোগ কমে গেলে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। মাঠ জনস্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষার পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ ক্রীড়াবিদ তৈরির সঙ্গেও যুক্ত। তাই মাঠ রক্ষা নিছক স্থানীয় দাবি নয়; এটি জাতীয় উন্নয়ন ও মানবসম্পদ বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ভূমির মালিক কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করতে হবে। চাঁদপুরের কেরোয়া ও রেলওয়ে চৌদ্দ কোয়ার্টার মাঠে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে তা অন্য এলাকার জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত