রের কচুয়ায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা, গুরুতর জখম ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বাহাদুর (৩৯) নামে এক মাংস ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। মামলায় নিজের পাশাপাশি ভাতিজাকে মারধর করে আহত করা এবং ব্যবসার নগদ টাকা ও রুপার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন বাদী।
মামলার এজাহার ও বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী, কচুয়া উপজেলার সাচার বাজারে দীর্ঘদিন ধরে কসাইয়ের কাজ ও মাংসের ব্যবসা করে আসছেন বাহাদুর।
অভিযোগ রয়েছে, আসামিদের একজন তাঁর দোকান থেকে বিভিন্ন সময়ে ৩৬ থেকে ৩৭ হাজার টাকার মাংস বাকিতে কেনেন। ওই পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ অক্টোবর বিকেলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা দা, ছেনি, রড ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর পথরোধ করেন।
এ সময় ব্যবসা চালিয়ে যেতে হলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা অতর্কিত হামলা চালান। একপর্যায়ে ছেনি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে বাহাদুর গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। তাঁর মাথায় কয়েকটি সেলাই দিতে হয়। তাঁকে রক্ষা করতে ভাতিজা জাভেদ এগিয়ে এলে তাঁকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁর কাছে থাকা মাংস বিক্রির নগদ ২ লাখ ৬২ হাজার ৮০০ টাকা এবং আট ভরি ওজনের একটি রুপার চেইন ছিনিয়ে নেন। এ ছাড়া দাবিকৃত ৫ লাখ টাকা না দিলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বাহাদুরের দাবি, পাওনা টাকা চাওয়ায় তাঁর ও ভাতিজার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল ও মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছেন। স্থানীয়ভাবে সালিশ-দরবার করেও সমাধান না পেয়ে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে মামলা করেছেন তিনি। বর্তমানে আসামিদের ভয়ে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে দাবি করে তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বাদী।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সুমন মিয়া বলেন, চাঁদা দাবির কোনো ঘটনা তাঁর জানা নেই। তাঁদের আর্থিক লেনদেন নিয়ে তিনি একটি সালিশ করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, দুজনই মাদকাসক্ত এবং তাঁরা দুজনই একসময় পুনর্বাসন কেন্দ্রে ছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পর পাওনা টাকা নিয়ে বাহাদুর তাঁকে জড়িয়ে ফেলেন। পরে তিনি এ বিরোধ থেকে সরে আসেন। এরপর তাঁদের দুজনের মধ্যে কী ঘটেছে, তা তিনি জানেন না বলে জানান।
তবে মামলায় আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় এখনো কী অগ্রগতি হয়েছে, তা জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত