নিজস্ব প্রতিনিধি: মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে মৎস্য খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সফল মাছ চাষের অন্যতম প্রধান শর্ত মানসম্মত পোনা। গুণগত মানসম্পন্ন পোনা উৎপাদন ও সরবরাহের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এ খাতে অবদান রেখে চলেছেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার লোহাগড়া গ্রামের উদ্যোক্তা মোশারফ হোসেন মানিক।
১৯৯৬ সালে অল্প পরিসরে শুরু করা তাঁর ‘পাইওনিয়ার ফিশারিজ অ্যান্ড হ্যাচারি’ বর্তমানে ৮ একর জমিতে বিস্তৃত। নিজস্ব ও লিজ নেওয়া জমিতে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
খামারের জলাশয়ে বাঁশের খুঁটি ও নেট দিয়ে বিশেষ ঘের তৈরি করে পোনা লালন-পালন করা হচ্ছে। শ্রমিকেরা ছোট নৌকায় পোনা সংগ্রহ, পরিচর্যা ও স্থানান্তরের কাজ করেন।
প্রতিষ্ঠানটিতে থাইল্যান্ডের থাই মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ মাছ সাধারণত ৬ থেকে ৭ মাস লালন-পালন করা হয়; এক বছর পর্যন্ত চাষ করলে মাছের আকার ও ওজন আরও বাড়ে। তেলাপিয়ার পাশাপাশি রুই, মৃগেল, কালিবাউশ, পাঙ্গাঙ্গাশ ও কাতলাসহ বিভিন্ন কার্পজাতীয় মাছের পোনা উৎপাদন ও বিক্রি করা হয়।
পোনা ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি রেণু ও মা মাছ বিক্রি করে। মৎস্যচাষিরা নিজেদের খামারের ধরন ও চাহিদা অনুযায়ী পোনা সংগ্রহ করেন। মানিকের লক্ষ্য মানসম্মত পোনা সরবরাহের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং চাষিদের লাভজনক অবস্থায় পৌঁছাতে সহযোগিতা করা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ডা. মো. মাহমুদ-ই-এলাহী বলেন, আমিষের চাহিদা পূরণ, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে মৎস্য খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, ১৯৯৬ সাল থেকে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পাইওনিয়ার ফিশারিজ অ্যান্ড হ্যাচারি প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে। ৮ একর জমিতে ১০ জনের কর্মসংস্থান স্থানীয় পর্যায়ে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা হাজী আহম্মদ আলী মিয়াজী বলেন, এ ধরনের উদ্যোগে পোনা উৎপাদন, পরিচর্যা, পরিবহন ও বিক্রির বিভিন্ন ধাপে কর্মসংস্থান হচ্ছে। স্থানীয় চাষিরা কাছাকাছি মানসম্মত পোনা পাওয়ায় পরিবহন খরচও কমেছে বলে তিনি জানান।
পাইওনিয়ার ফিশারিজ অ্যান্ড হ্যাচারির স্বত্বাধিকারী মোশারফ হোসেন মানিক জানান, পোনা বিক্রির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় তরুণ ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থানেও ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে ১০ জন শ্রমিক দক্ষতার সঙ্গে খামারের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, মাছের উৎপাদন বাড়াতে মানসম্মত পোনার বিকল্প নেই। পোনা লালন-পালনে পানির গুণগত মান, সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ জরুরি। সরকারি বিধিবিধান ও হ্যাচারি নিবন্ধন মেনে কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত