নিজস্ব প্রতিনিধি: জাতীয় অর্থনীতি ও চাহিদার দিক থেকে ইলিশের গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে মা ইলিশ নিধনের প্রবণতা থামছে না। শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, হাইমচর থেকে চাঁদপুর সদর ও মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদী এবং শরীয়তপুর সীমান্তবর্তী নৌ-সীমানায় দিন-রাত নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে ডিমওয়ালা মা ইলিশ শিকার চলছে। প্রজনন সুরক্ষার এই সময়ে এমন তৎপরতা উদ্বেগজনক।
জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্সের পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড এবং নৌ পুলিশ নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে। গত কয়েক দিনের অভিযানে বহু জেলেকে আটক, বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল ও নৌকা জব্দ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। নৌবাহিনী, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বিশেষ অভিযানগুলো প্রশাসনের তৎপরতার প্রমাণ।
তবে এসব পদক্ষেপের পরও অসাধু চক্রকে পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল দল সরে যাওয়ার পর জেলেরা আবার নদীতে নামছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে মা ইলিশের অভয়াশ্রম সুরক্ষা হুমকির মুখে পড়ছে।
ইলিশ জাতীয় সম্পদ এবং এর বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। তাই শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, এর পরিধি ও কৌশলও বাড়ানো প্রয়োজন। দুর্গম চর ও সীমান্তবর্তী এলাকায় টহলের ফাঁক দূর করে সার্বক্ষণিক বা স্থায়ী নজরদারির ব্যবস্থা করা জরুরি। অবৈধ কর্মকাণ্ডে মদদদাতা অসাধু চক্র ও মহাজনদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।
মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না—প্রশাসনের এই অবস্থান মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে অভিযানকে আরও নিবিড়, বহুমুখী ও কঠোর করা সময়ের দাবি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত