নিজস্ব প্রতিনিধি: শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, আর নৈতিকতা শিক্ষার প্রাণ। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল ভালো ফলাফল, উচ্চতর ডিগ্রি বা অর্থ উপার্জনের যোগ্যতা অর্জন নয়; বরং একজন মানুষকে সৎ, আদর্শবান, নৈতিকতাসম্পন্ন ও মানবিক হিসেবে গড়ে তোলা। এ ক্ষেত্রে দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুর জীবনের প্রাথমিক পর্যায়টি বিশ্বাস, নৈতিকতা, শিষ্টাচার ও ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সময়।
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য পবিত্র কুরআন শিক্ষা, নামাজ, প্রয়োজনীয় দোয়া, মৌলিক দ্বীনি জ্ঞান, নৈতিকতা, আদর্শ চরিত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ শেখার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। এ ভিত্তি মজবুত হলে শিক্ষার্থী পরবর্তী সময়ে মাদরাসা বা সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়লেও নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও নৈতিক আদর্শ ধরে রাখতে পারবে।
ইসলাম জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করেছে। দ্বীনি জ্ঞানের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহ তাআলাকে চিনতে, ইবাদতের নিয়ম জানতে এবং জীবনের সঠিক পথ সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে। শিশুর শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ তৈরির পাশাপাশি এমন শিক্ষা দেওয়া দরকার, যা তার বিশ্বাস, ইবাদত, চরিত্র ও দৈনন্দিন জীবনকে সুন্দর করে।
শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। পরিবার, শিক্ষক ও পরিবেশ থেকে তারা আচরণ ও অভ্যাস শেখে। তাই প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে দ্বীনি শিক্ষার সমন্বয় করে বিশুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত, ঈমান-আকিদা, নামাজ, অজু-গোসল, পবিত্রতা, প্রয়োজনীয় দোয়া ও হাদিস শেখানো উচিত। একই সঙ্গে পিতা-মাতা ও শিক্ষকের সম্মান, সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ধৈর্য, ক্ষমা, সহানুভূতি এবং প্রতিবেশী ও অসহায় মানুষের প্রতি সদাচরণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
সন্তানের শিক্ষা ও চরিত্র গঠনে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিলেই অভিভাবকের দায়িত্ব শেষ হয় না; সন্তানকে কুরআন শিক্ষা দেওয়া, নামাজের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য শেখানোর প্রতিও যত্নবান হতে হবে। নিজেদের আচরণের মাধ্যমেও অভিভাবকদের উত্তম আদর্শ উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। শৈশব থেকেই বয়সোপযোগী পদ্ধতিতে ভালোবাসা, ধৈর্য ও উৎসাহের সঙ্গে নামাজের পদ্ধতি, দোয়া, সূরা, তাশাহুদ ও প্রয়োজনীয় মাসআলা শেখানোর ব্যবস্থা থাকা দরকার।
শিক্ষিত হওয়া এবং নৈতিকতাসম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সত্যবাদিতা, শালীনতা, দয়া, ক্ষমাশীলতা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানুষের প্রতি সম্মানবোধ গড়ে তোলা জরুরি। কুরআন-হাদিসের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগের মাধ্যমে শিশুরা সৎ থাকা, অন্যের অধিকার রক্ষা এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকার গুরুত্ব বুঝতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ে দ্বীনি শিক্ষার ভিত্তি গড়ে তোলার অর্থ প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে পরবর্তী সময়ে মাদরাসায় পড়তে হবে—এমন নয়। কেউ মাদরাসায়, কেউ সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়বে; তবে যে পথেই এগিয়ে যাক, তার মধ্যে মৌলিক দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ থাকা প্রয়োজন। দ্বীনি ও সাধারণ শিক্ষাকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী না দেখে আদর্শ মানুষ গঠনের পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
শিশুদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিয়ে গড়ে তোলা যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মক্তব ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বয়সোপযোগী দ্বীনি শিক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। এতে শিক্ষার্থীরা কুরআন পড়তে, নামাজ শিখতে, দ্বীনের মৌলিক বিধান জানতে এবং সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত