নিজস্ব প্রতিনিধি: ইব্রাহীম সাহেবের ঘরটিতে তখন গভীর রাতের নীরবতা। টেবিলের ওপর রাখা টেবিল ল্যাম্পের মৃদু আলোয় দেখা যাচ্ছিল, সতেরো বছর বয়সী সুবহান পড়ার টেবিলে ঝুঁকে আছে। তার সামনে ছিল এইচএসসি পরীক্ষার টেস্ট পেপার ও অনেকগুলো গাণিতিক সমস্যা।
এর আগে বিকেলে পড়া না পারায় সুবহান কিছুটা মেজাজ দেখিয়েছিল এবং পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি দেখে ইব্রাহীম সাহেব কঠোরভাবে ছেলেকে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন হতে বলেন। বাবার কথায় আঘাত পেয়ে সুবহান ঘর থেকে বের হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। তার মনে অভিমান জমে—বাবা হয়তো তাকে ভালোবাসেন না এবং সবসময় শুধু তাকেই দোষ দেন।
মাঝরাত পেরিয়ে ভোর হওয়ার সময়ও সুবহানের ঘুম ভাঙেনি। একপর্যায়ে সে অনুভব করে, কেউ তার মাথায় স্নেহভরে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। চোখ খুলে সে দেখতে পায়, তার বাবা ইব্রাহীম সাহেব তাহাজ্জুদের নামাজ শেষ করে জায়নামাজে বসে তার জন্য দোয়া করছেন।
সুবহান জেগে উঠলে ইব্রাহীম সাহেব নরমভাবে তাকে বলেন, কষ্ট দিয়ে থাকলে যেন রাগ না করে। তাঁর ভাষ্য, সতেরো বছর বয়সে মন নানা দিকে ছুটে যায়; তবে সঠিক পথে থাকা জরুরি। তিনি চিরদিন পাশে নাও থাকতে পারেন, কিন্তু তাঁর শিক্ষা সুবহানের সঙ্গী হবে।
বাবার কম্পিত হাত ও গভীর দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে সুবহানের মনে উপলব্ধি হয়, আগের দিনের কঠোর কথার আড়ালে ক্ষোভ নয়; ছিল সন্তানের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা।
সুরা লোকমানের উপদেশে সন্তানকে সালাত কায়েম, ভালো কাজের নির্দেশ, মন্দ কাজে বাধা এবং বিপদে ধৈর্য ধারণের কথা বলা হয়েছে। কৈশোর থেকে সাবালকত্বে পা রাখা এই সময়ে সন্তানের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করা জরুরি। ইসলামে সন্তানের সংশোধনের জন্য অভিভাবকের শাসন ও উপদেশকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়।
কৈশোরে বাবার শাসন বা রাগ সন্তানের প্রতি বৈরিতা নয়—বরং তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করার দায়িত্ববোধ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই শাসনই সন্তানের কাছে পিতার ভালোবাসা ও কল্যাণকামিতার প্রকাশ হিসেবে ধরা দিতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত