নিজস্ব প্রতিনিধি: ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৩ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক কবির আহমেদ ও অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) চিঠি দিয়ে তাদের দু মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোহেল বেপারী গত ২৭ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি গঠন করেন। কমিটি ২০২১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ক্যাশ বই ও ব্যাংক হিসাব পরীক্ষা করে ৩৩ লাখ ১৫ হাজার ৮০৯ টাকার অনিয়ম ও গরমিলের প্রমাণ পেয়েছে বলে জানানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২০১৫ সালে যোগদানের পর কবির আহমেদ অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ ও কোচিং বাণিজ্য এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অশালীন আচরণসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত ছিলেন। অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধেও হিসাব-নিকাশে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারী বিধিমালার ৪.১৭ বিধি অনুযায়ী তাদের গত ১৮ অক্টোবর চিঠি দিয়ে সাত দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধের সময় দেওয়া হয়। তবে তারা চিঠি গ্রহণ ও টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। পরে জরুরি সভা ডেকে সভাপতি স্বাক্ষরিত চিঠিতে দুজনকে দুই মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সভায় কমিটির একজন সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোহেল বেপারী বলেন, বড় অঙ্কের হিসাবগুলোই আপাতত পরীক্ষা করা হয়েছে; ছোটখাটো আরও কিছু হিসাব এতে ধরা হয়নি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক আতিকুর রহমান, জাহিদসহ কয়েকজন শিক্ষক হিসাব-নিকাশে গরমিলের কথা জানিয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক কবির আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো টাকা আত্মসাৎ করেননি এবং তদন্ত-সংক্রান্ত চিঠি গ্রহণ করেননি। অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামও বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ের হিসাব-নিকাশ কমিটি দেখভাল করেছে।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিকভাবে করা হয়েছে কি না এবং প্রকৃত ঘটনা জানতে ২৭ অক্টোবর বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্তের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আরিফ রাসেল, প্রধান সম্পাদক: এমরান হোসেন রাজন, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ জাহিদুর ইসলাম ভূঁইয়া, বার্তা সম্পাদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন।
অফিস: কুমিল্লা রোড় চক্ষু হাসপাতালের বিপরীত পাশে পাটওয়ারী ভবন (৩য়) তলা চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। মোবাইল: ০১৯১৪-৬১৩৫৪৪, ০২৩৩৭৭-৪২৮৭৫, ইমেল: banglaaadi@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত