
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ চাঁদপুর সদর উপজেলার আশিকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত চিঠিতে আওয়ামী লীগ নেতা, আওয়ামী সমর্থিত ইউপি সদস্য সহ বেশ কয়েকজনের কাছে টাকা দাবী করা হয়েছে। চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন একাধিক ব্যাক্তি। তবে স্বাক্ষরদাতার বলছেন এই ধরণের কোন চিঠি তারা দেননি। তাদের সম্মানহানীর জন্য এই ধরণের কাজ করা হয়েছে।
সরেজমিন ওই ইনিয়নে গিয়ে কথা হয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতা, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের এক ইউপি সদস্য ও আরেক ইউপি সদস্যের সাথে।
নির্দেশনাপত্র শিরোনামে ওই চিঠিতে ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. কামাল হোসেন পাটওয়ারীর কাছে ২০লাখ টাকা দাবী করা হয় এবং ২৫ অক্টোবরের মধ্যে ওই টাকা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিকট পরিশোধ করার জন্য বলা হয়।
এদের মধ্যে ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের এক নেতা চিঠি পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং বলেন চাঁদা না দিয়ে থাকা যায় কীভাবে।
সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য বলেন, তিনি চিঠি পেয়েছেন এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আলী আশরাফ রিপনের সাথে কথা বলেছেন। ওই নেতা জানিয়েছেন এই চিঠির স্বাক্ষর যাছাই করার জন্য এক্সপার্ট কাউকে দিয়ে যাচাই করা হবে।
আরেক ইউপি সদস্য বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত চিঠি পাননি। তবে কয়েকজন টাকা দাবী করা চিঠি পেয়েছেন বলে তিনি জেনেছেন।
এদিকে টাকা দাবী করা চিঠি পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে না আসলেও দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে বলে জানাগেছে। কারণ এর আগেও এই ইউনিয়নে বিএনপি নেতারা তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন। অনেকেই তাদের কারণে মামলা থেকেও রক্ষা পেয়েছেন। এই বিষয়ে জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আলী আশরাফ রিপন বলেন, এই ধরণের কোন চিঠি আমরা দেইনি। টাকার জন্য সংগঠনের পেড কেন ব্যবহার করবো। আমাদের সম্মানহানীর জন্য কোন পক্ষ এই ধরণের কাজ করেছে।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এমএ ইউসুফ মিন্টু মিয়া বলেন, চিঠি দিয়ে টাকা দাবী এমন বিষয়ে তিনি জানেন না। এই ধরণের কোন চিঠি তাদের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি।