
নিজস্ব প্রতিনিধি
হাইমচরে সমন্বয়ক পরিয়ে চাঁদাবাজির সময় আবির হোসেন শরীফ নামের এক যুবককে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় জনতা। গত ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেল ৩ টায় হাইমচর উপজেলার পার্শবর্তী উপজেলা ফরিদগঞ্জের ১০নং দক্ষিণ গোবিন্দপুরের ৮নং ওয়ার্ড এলাকায় দাবিকৃত চাঁদার টাকা আনতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণধোলাই দেয়। চাঁদাবাজ শরীফের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসীর মাঝে যেন প্রশান্তির স্বস্তি নেমে এসেছে। এই চাঁদাবাজ শরীফের গণধোলাইয়ের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে আইআনুগ ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী জানান উপজেলাবাসী।
অপকর্মের সাথে আর জড়িত থাকবেনা এমন মর্মে মুসলেকা দিলে এলাকাবাসী হাইমচরের কয়েকজন গন্যমান্য ব্যক্তির জিম্মায় তাকে ছাড়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছৈয়াল মোড় এলাকার চোরা হানিফ নামে পরিচিত হানিফ মিজির ছেলে আবীর হোসেন শরীফ। ৫ আগষ্টের পূর্বে ঢাকায় হকারী করা ছিল তার পেশা। গনঅভ্যুত্থানে নিজেকে আহত দেখিয়ে ছাত্র সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলমের সাথে তোলা একাদিক ছবি দিয়ে নিজেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দাবী করে আসছেন তিনি। এই সমন্বয়ক পরিচয়ে নিজ গ্রাম উত্তর আলগী ইউনিয়নের ছৈয়াল মোড় এলাকার সাধারণ মানুষজনকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা শুরু করে। এলাকার যুবকরা তাকে তার দাবীকৃত টাকা না দিলে তাদেরকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে এলাকায় নিজেকে একজন প্রশাসনের উচ্চতর লোকের কাছের লোক বানিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। তার অপকর্মের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় প্রবাসী রুহুল আমিন পাটোয়ারী বিদেশ থেকে ছুটিতে বাড়িতে আসলে তাকে আওয়ামিলীগ আখ্যায়িত করে তার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি বিষয়টি তার মেয়ে জামাতা উজ্জলকে জানালে তিনি শরীফকে তার দাবীকৃত টাকা নিতে পাশ্ববর্তী এলাকা গোবিন্দপুর গ্রামে আসতে বলেন। চাঁদাবাজ শরীফ তার টাকা আনতে গেলে স্থানীয় লেকজন শরীফকে ধরে গণধোলাই দিয়ে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেন। এই
চাঁদাবাজ শরীফ ইতি পূর্বে এলাকার অসহায় ও গরিব মানুষের কাছে বিভিন্ন ভাবে চাঁদা দাবি করে আসছিল।চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সে তাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং পুলিশে সোপর্দ করার ভয় দেখাত। এমনকি সে এলাকার লেপ-তোশকের দোকানদার এবং পানের বরজে কর্মরত শ্রমিকদের থেকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করত বলে অভিযোগ রয়েছে।এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকলেই সেখানে গিয়ে তাদের জমি দখল করে দিবে বলে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করতো।না দিলেই তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে মামলায় হয়রানি এবংকি তাদের গায়েও হাত দিতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যা বললে ক্ষতি করবে বলে এলাকার লোকজন ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পেত না।
এব্যাপারে ঘটনস্থলের একজন লোক জানান,৫ আগষ্টের পর থেকে এই শরীফুল হাইমচর ও আমাদের ফরিদগঞ্জে এসেও বিভিন্ন সময় অপকর্মের সাথে জড়িত হতো।মানুষের সাথে খারাপ ব্যাবহার করতো।মানুষের কাছে বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে চাঁদা দাবি করতো। তাই গত ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আমাদের এদিকে সমন্বয়ক পরিচয় দানকারী শরীফুল এদিকে আসলে এলাকার সাধারণ মানুষ তাকে জিজ্ঞেস করলে শরিফুলের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে। এক পর্যায় সাধারণ মানুষ তার সাথে বাক বিতন্ড শুরু হলে।শরীফুল নিজের প্রভাব খাটিয়ে কিছু মানুষের সাথে মারপিট করে।পরে এলাবাসী তার রাগ ও ক্ষোভ দেখে অতিষ্ঠ হয়ে গণধোলাই দেয়।খবর পেয়ে স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মামুনুর রশিদ তাৎক্ষণিক ভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং বিষয়টি স্থানীয় সেনাবাহিনীকে অবহিত করেন।
পরবর্তীতে শরিফুলের ছোট ভাই, তার মা ও স্থানীয় মোঃ হাফেজ ছৈয়ালসহ ঘটনাস্থলে এসে শরীফুলের অপকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। শরিফুল ভবিষ্যতে আর কখনো এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবে না মর্মে স্থানীয়দের কাছে নিজে লিখিত মুসলেকা দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন।
এলাকাবাসীর জোর আবদার এই ধরনের সমন্বয়ককারী ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর ব্যাবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে মোঃ শরীফ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সাথে উত্তর আলগি ইউনিয়নের রুহুল আমিন পাটোয়ারীর সাথে কথার কাটাকাটি হয়। বিগত স্বৈরাচার আমলে তার ভাই ওয়াসিম পাটোয়ারী আমাদেরকে হামলা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। সে বিষয় নিয়ে কথার কাটাকাটি হয়। আমি ফরিদগঞ্জ থেকে বাসায় ফেরার পথে লাড়ুয়ার এলাকায় রুহুল আমিন পাটোয়ারীর মেয়ের জামাই আটক করে আমাকে মারধর করে। প্রাণে রক্ষায় উপায়ন্ত না পেয়ে আমি তার পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে এবং তারা আমার কাছ থেকে সাদা কাগজে মুচলেকা গ্রহণ করেন। তবে আমি কোন প্রকার চাঁদাবাজি কিংবা মামলাবাজির সাথে জড়িত নেই।