
মোঃ জাবেদ হোসেনঃ চাঁদপুর নৌ থানায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এসআই বিলাল এলাকার অপরাধ দমনে যে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন, তা অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা দখল করেছে। অবৈধ চাঁদাবাজি, চোরাচালান, ইঞ্জিনচালিত নৌযানে উৎপাত, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা—এসব অপরাধ দমনে তার ধারাবাহিক অভিযান এখন অপরাধীদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। টানা টহল ও দ্রুত অভিযান—পরিবর্তন দেখছে নদীপথ চাঁদপুরের পদ্মা–মেঘনার গুরুত্বপূর্ণ নদীপথগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চক্রের দখলে ছিল। মাঝে মধ্যেই জেলেদের হয়রানি, নৌযানে চাঁদা আদায়, এমনকি রাতে নদীতে ডাকাতির ঘটনাও ঘটত। কিন্তু এসআই বিলাল দায়িত্ব নেওয়ার পর নদীপথে টহল জোরদার, সন্দেহজনক নৌযান চেকিং এবং তথ্যভিত্তিক অভিযানের ফলে পরিস্থিতি দৃশ্যমানভাবে উন্নতি হয়েছে।
জেলেরা জানান, আগে রাতে নদীতে নামলেই ভয়ে থাকত; এখন অনেকটাই স্বস্তি। এক জেলে জানান, “বিলাল সাহেব নিয়মিত নদীতে থাকেন। তাকে দেখলেই চাঁদাবাজরা সরে পড়ে। আগের মতো ভয় নেই।”
অপরাধ চক্র ভাঙতে কঠোর অবস্থান, নৌ থানার সূত্রে জানা যায়, এসআই বিলাল দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধ মাছ ধরার জাল জব্দ, অসাধু নৌযানচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নদীপথে চলাচল সুরক্ষিত করতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অপরাধ চক্রের সদস্যরা বহুবার নদীপথে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করলেও এসআই বিলালের নেতৃত্বে পুলিশ তা প্রতিহত করে। তার নেতৃত্বে একাধিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, অবৈধ নৌযান এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করা হয়।
বিশেষ নজরদারি: উৎসব ও ভরা মৌসুমে বাড়তি নিরাপত্তা মাঝেমধ্যে ঈদ, ইলিশ মৌসুম, বা বর্ষার তীব্র স্রোতের সময় নদীপথে অপরাধ বেড়ে যায়। এ সময়গুলোতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে টহলে থাকেন বলে জানায় নৌ থানার সদস্যরা। যাত্রীবাহী লঞ্চ, স্পিডবোট ও মাছ ধরার নৌকা যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারে—সে জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোরতা নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধে এবং অবৈধ জাল অপসারণে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জনমনে স্বস্তি, প্রশাসনে সন্তুষ্টি স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের দাবি—এসআই বিলাল নদীপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। তার পেশাদারিত্ব, কর্মদক্ষতা এবং মানবিক আচরণ পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়িয়েছে।
নৌ থানার এক কর্মকর্তা বলেন, “এসআই বিলাল দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী ও ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত একজন অফিসার। তার কারণে নদীপথ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ।”
অপরাধ দমনে উদাহরণ চাঁদপুরের নদীপথে অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআই বিলালের এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অন্যান্য থানার জন্যও একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণ আশা করছে, তিনি এই ধারা অব্যাহত রাখবেন এবং নদীপথকে আরও নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত করবেন।