শাহরাস্তি প্রতিনিধি- আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষকরা সরাসরি নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ও প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছেন এমন অভিযোগ একাধিক রাজনৈতিক দলের।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় গত ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫ এর ২০ (খ) বিধি অনুযায়ী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মকর্তা কর্মচারী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ না করার নির্দেশনা রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় কোন প্রার্থীর পক্ষে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা লংঙ্ঘন হবে।
জানা যায়, চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী আবুল হোসাইনের পক্ষে শাহরাস্তি মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ও স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, আবুল বাশার, ইকবাল হোসেন, উপজেলার রাগৈ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক মাওঃ মাঈনুদ্দীন, পরানপুর ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী আনোয়ার হোসেন ও মনির হোসেন, ভোলদিঘী কামিল মাদরাসার প্রভাষক মাওঃ আমিনুল ইসলাম ও তাফাজ্জল হোসেন, দৈয়ারা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মাওলানা মাছুম বিল্লাহসহ উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষক প্রকাশ্যে হাটে বাজারে, বাড়িতে, পাড়া-মহল্লায় উঠান বৈঠক ও পথসভায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করে যাচ্ছেন। যা নির্বাচনী আচরণ বিধির সরসারি লংঘন। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত ও আচরণ বিধি মেনে চলতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান সচেতন মহল।
উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আলী আজগর মিয়াজী জানান, শিক্ষকরা প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি কাজ তো করছেই পাশাপাশি শাহরাস্তি মডেল স্কুল নামে একটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান যেটি প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জামায়াত প্রার্থীর সকল কর্মকান্ড সেখান থেকে পরিচালিত হচ্ছে। তাছাড়া শিক্ষকরা ক্লাস চলাকালীন সময়ে নির্বাচনী কাজ করছেন এমন অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে।
এ বিষয়ে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ এর প্রার্থী মাহমুদ হাসান নয়ন জানান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাই ইতোপূর্বে সকল শিক্ষক তাদের পক্ষে কাজ করবেন বলে বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত হয়েছেন। ইদানিং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধর্ম ও কালেমার দোহাই দিয়ে তারা ভোটারদের প্রতিশ্রুতি নিচ্ছেন। যেটা আচরণবিধি লঙ্ঘনের সামিল।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত একাধিক শিক্ষকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা বক্তব্য না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন জানান, ইতোমধ্যে শিক্ষকদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। যদি কোন শিক্ষক বিধি বহির্ভূতভাবে নির্বাচনী কাজে যুক্ত হন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।