1. info@www.aadibangla.com : দৈনিক আদি বাংলা :
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন মো. জসিম উদ্দিন শেখ মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ চাঁদপুরে নিরাপদ ঈদযাত্রায় বিআরটিএ’র সচেতনতামূলক রোড শো ও লিফলেট বিতরণ ফরিদগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে যুবক গ্রেফতার সাইন্টিফিক স্কুল ফরিদগঞ্জের বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ: শিক্ষা জাতির অধিকার- ডাঃ আবুল কালাম আজাদ। মতলব উত্তর উপজেলা সমবায় অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ চাঁদপুরে খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শাহরাস্তি খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন —–জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান সভাপতি ডিসি আহমেদ জিয়াউর রহমান, সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন জনু

ফরিদগঞ্জের বড়গাঁও গ্রামে পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয়ার পরে নাটকীয়তা

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৭৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৪নম্বর সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামের দৌলার বাড়ির বাসিন্দা সাখাওয়াতুর রহমান মাসুদ। তিনি পেশায় স্থানীয় ধর্মীয় একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। রাজনৈতিকভাবেও ইসলামী আদর্শিক দলের নেতা। তবে আপন লোকদের পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয়ার পর শুরু করেছেন নানা নাটকীয়তা। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে অভিযোগ করেছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। তবে সম্পত্তির প্রকৃতি মালিকদের দাবী তিনি নিজেই ওয়ারিশ ও পৈত্রিক খরিদ সূত্রে মালিক সম্পত্তি মেপে বুঝিয়ে দেয়ার পর মিথ্যা তথ্য প্রচার করছেন।

সরেজমিন ওই বাড়িতে গিয়ে সম্পত্তির মালিক, বাড়ির লোকজন ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানাগেছে।

সম্পত্তির অংশীজনরা জানান, দৌলার বাড়ির মরহুম ফজর আলী মুন্সির ওয়ারিশ হচ্ছেন ক্বারী শামছুল হক ও আব্দুল মান্নান মিয়া গংরা। তবে মান্নান মিয়া ও তার আপন ভাইরা ৫০বছর পূর্ব থেকে পাশে হিন্দুদের সম্পত্তি ক্রয় করে বসত করে আসছেন। কিন্তু দৌলার বাড়িতে থাকা তাদের সম্পদ ভোগ করে আসছেন ক্বারী শামছুল হকের ছেলে মাওলানা সাখাওয়াতুর রহমান মাসুদ। মান্নান মিয়াদের পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয়ার জন্য বহুবার শালিস বৈঠক হয়। সর্বশেষ বৈঠক ও জমি জরিপ করে মান্নান গংরা তাদের সম্পত্তি বুঝে নেন এবং তাদের সম্পত্তিতে শ্রমিক দিয়ে বেড়া দেন। এরপর থেকে শুরু হয় সাখাওয়াতুর রহমান মাসুদের নাটকীয়তা।

দৌলার বাড়ির বাসিন্দা কালু হোসেন বলেন, মান্নান গংরা তাদের সম্পত্তি বুঝে নিয়ে বেড়া দিয়েছে। কারো চলাচলের পথ রোধ করেনি। সাখাওয়াত আগে খোলা থাকার কারণে সব দিক দিয়ে চলাফেরা করেছে। এখনো তার ঘর থেকে বের হওয়ার সদর রাস্তা আছে। মান্নান গংদের বেড়া কারা ভেঙেছে তা আমি দেখেনি।

দৌলার বাড়ির অংশীদার মো. হানিফ মিয়া বলেন, এলাকার গণম্যান্য ব্যাক্তিবর্গ, ইউপি সদস্য ও আমাদের বাড়ির সাখাওয়াত উপস্থিত থেকে জরিপ করে আমাদের সীমানা দিয়েছে। আমরা আমাদের সম্পত্তিতে বেড়া দিয়েছি। তাকে অবরুদ্ধ করিনি। তিনি এখন সমাধান হওয়া বিষয়টি নিয়ে সমস্যা তৈরী করছেন।

সম্পত্তির অংশীদার হাফেজ গোলাম মোস্তফা বলেন, আমাদের পৈত্রিক বাড়ি এটি। এক সময় এই বাড়িতে ছিলাম। প্রায় ৫০ বছর পূর্বে এই বাড়ি থেকে জমি কিনে অন্য বাড়িতে গিয়ে বসবাস শুরু করেছি। আমাদের বাড়ির সম্পত্তি খোলামেলা ছিলো। ওই স্থানে সাখাওয়াতরা বসতি গড়ে। তাদেরকে আমরা কোন কিছুই বলিনি। যখনই আমরা আমাদের সম্পত্তি বুঝে নেয়ার জন্য আসছি, তখনই তারা গড়িমসি করে। একাধিকবার বৈঠক হয়। তাদের মতামতের ভিত্তিতে আমাদেরকে যেখান দিয়ে সম্পত্তি বুঝিয়ে দিয়েছে সেভাবে নিয়েছি। কিন্তু সাখাওয়াত এখন মিথ্যা ও অপ্রচার চালাচ্ছে।

আরেক অংশীদার আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, সাখাওয়াত ফজর আলীর নাতি এবং আমি একই দাদার নাতি। তিনি যদি সম্পত্তির অংশ পান, আমি সমান অংশীদার। যদিও আমরা হিন্দু বাড়িতে সম্পত্তি কিনে থাকি, কিন্তু আমাদের নতুন প্রজন্ম দাদার ভিটার অংশীদারিত্ব চায়। তারা নিজেদের মূল ঠিকানায় স্থাপনা করতে চায়। এসব কারণে আমরা পৈত্রিক ও খরিদকৃত সম্পত্তি বুঝে নেয়ার জন্য জরিপকারকসহ একটি সমাধানে এসেছি। কিন্তু সাখাওয়াত জামায়াত করে। জামায়াতের প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চায়। আমরা তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছি এসব বলে বেড়াচ্ছে। মূলত আমরা আমাদের অংশ বুঝে নিতে চাই।

ওই বাড়ির মৃত আব্দুল হক মুন্সীর ছেলে ফারুক আহমেদ বলেন, আমাদের মান্নান চাচা যতটুকু সম্পত্তির মালিক আমার বাবাও সমান অংশীদার। কিন্তু আমাদের সম্পত্তি বুঝিয়ে না দিয়ে মাসুদ চাচা বলে আমার বাবা নাকি মুখে মুখে বিক্রি করেছে। আমরা তাকে বলেছি বিক্রি করেছে বললে হবে না প্রমান এবং কাগজপত্র দেখাতে হবে। তিনি কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। উনাদের ভোগ দখলে আমাদের সম্পত্তি।

মান্নান মিয়ার আরেক ভাই মৃত মোহাম্মদ উল্যা মাষ্টার। তার ছেলে আল-আমিন বলেন, আমি নিজে থেকেও তিন থেকে ৪বার মাফ জরিপ করেছি। যার সাথে সমস্যা সাখাওয়াতুর রহমান মাসুদ উনার ঘরে বসেই সব কথাবার্তা হয়েছে। সব কাগজপত্র নিয়ে বসা হয়। যারা কাগজপত্র বুঝেন তারাই বৈঠকে ছিলেন এবং জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সকলের সিদ্ধান্তে আমরা যে সম্পত্তি পাই, সেই সম্পত্তি উনার ঘরসহ পড়ে। কিন্তু তিনি আমাদেরকে পিছনের খানা খন্দকসহ বুঝিয়ে দিয়েছেন গত তিন মাস আগে। সেখানেই আমরা বেড়া দিয়েছি। উনি বড়ে বেলায় আমাদের সম্পত্তি নেই। এটাই যদি হয়, তাহলে তিনি মাফ জরিপে সমান টাকা দিয়ে এবং উপস্থিত থেকে কেন জমি বুঝিয়ে দিলেন। এখন আবার মিথ্যা প্রচারনা চালাচ্ছেন। আমরা কোন ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হোক সেটি চাই না। আমরা আমাদের সম্পত্তি সংরক্ষণে রাখতে চাই। যদি অন্যায় কোন কিছু করি, তাহলে আইনের মাধ্যমে আমাদের বিচার হবে। কিন্তু মিথ্যা তথ্য প্রচার করা উনার অধিকার নেই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ওবায়েদ উল্যাহ বলেন, গত তিন মাস আগে মান্নান মিয়া ও মাসুদ গংদের মধ্যে জায়গা সম্পত্তি নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে উনাদের সম্পত্তি ভাগাভাগি হয়। মাসুদ মাওলানা ও মান্নান গংদের জায়গা বুঝিয়ে দেয়া হয়। এরপর মান্নান মিয়া গংরা তাদের সম্পত্তিতে বেড়া দেয়। কিন্তু মাসুদ মাওলানা বলে জরিপ করার সময় নাকি ভুল হয়েছে। আমি উনাকে বলেছি ভুল হলে গত তিন মাসে বলেননি কেন। যদি কোন কথা থাকে তাহলে বসেন কথা বলি। উনি বলে আমাকে তিন মাস সময় দিতে হবে।

একই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য নাজমুল হুদা বলেন, মাসুদ মাওলানা ফরিদগঞ্জ থেকে এবং হাজীগঞ্জ থেকে আমিন এনে জরিপ করিয়েছে। সেখানে আমিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সম্পত্তি ভাগাভাগির পর মাসুদ মাওলানা তিন মাস সময় চেয়েছে। তিনমাস অতিবাহিত হওয়ার পর মান্নান গংরা তাদের জায়গায় বেড়া দিয়েছে। এরই মধ্যে মাসুদ মাওলানা সাংবাদিক এনে দেখিয়েছে তিনি অবরুদ্ধ। সাংবাদিক যাওয়ার পর তিনি বেড়া ভেঙে দিয়েছে। পরে উনি আবার বিষয়টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে জানিয়েছে। চেয়ারম্যান বলছে তিনি সরেজমিন এসে বিষয়টি দেখবেন।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। আমার
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট