সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখাগেছে ফসলি জমির মাঝখানে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে পুকুরের মত জলাশয় তৈরী করা হচ্ছে। প্রায় ৪০ শতাংশ জমি খনন শেষ। আরেকটি জমিতে মাটি কেটে বিক্রির প্রস্তুতি চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, রমজান মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে স্থানীয় বাসিন্দা কাদির হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন তার জমি থেকে মাটি বিক্রি করে জলাশয় তৈরি করছেন। আর এসব মাটি বিক্রি করছেন স্থানীয় বিভিন্ন লোকজনের কাছে। জমির শ্রেণি পরিবর্তন না করে অবৈধভাবে ফসলি জমি খনন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাশবর্তী জমির মালিক ও কৃষকরা।
স্থানীয়রা জানান, আলমগীর প্রভাবশালী। তার গাড়ির ব্যবসা আছে। যে কারণে তার এই অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করতে পারেনি ক্ষতিগ্রস্তরা। মাটি কাটার শুরুতে এলাকার এক ব্যাক্তি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিলে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কিন্তু প্রভাবশালী ব্যাক্তি পুলিশকে পাত্তা দেয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কৃষক বলেন, আলমগীর প্রভাবশালী। যে কারণে তার এই অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করতে পারিনি। দুটি জমিতে খনন কাজ চলমান। যে কারণে রাস্তার সাথের জমিতে এবার ফসল উৎপাদন বন্ধ। এবছর ওই জমির মালিককে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ফসল উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানাগেছে, খনন করা জমির পশ্চিম পাশে কৃষক আলমগীর ৪০ শতাংশ জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। উত্তর ও পূর্ব পাশে রয়েছে একই ধরণের ধান আবাদের জমি।
এছাড়াও আলমগীর আরেকটি জমি খনন করেছেন মাছ চাষের জন্য। সেখানেও ওই গ্রামের মালেয়শিয়া প্রবাসী তাজুল ইসলামের দক্ষিণে বসতি। পূর্ব দিকে আবুল হোসেনের বসতী। এরাই সবাই ভুক্তভোগী।
অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করেননি। দলিলে তার জমি নাল। এলাকার অনেকেই এভাবে জমির মাটি কেটে মাছ চাষ করে। সে জন্য তিনিও করেছেন। যদি কারো ক্ষতি হয়, তিনি আর মাটি কাটবেন না।
কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু নাছির এই বিষয়ে বলেন, তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। বুধবার ইউনিয়ন তহসিল অফিস থেকে লোক পাঠিয়ে মাটি কাটা বন্ধ রাখার জন্য বলেছেন। এরপরেও যদি মাটি কাটা হয় তাহলে তিনি নিজেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।