
একজন জনপ্রিয় সদালাপী, সাদা মনের মানুষ, বিশিষ্ট সমাজসেবক গোলাম ইয়াজদানী চৌধুরী (এনাম)। মনোহরখাদী চৌধুরী বাড়ির কৃতি সন্তান তিনি। পিতার নাম- গোলাম জিলানী চৌধুরী, মাতা- সালেহা চৌধুরী। পারিবারিকভাবেই তাদের পরিবারে অতীতে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অনেকেই সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারই উত্তরসরী এনাম চৌধুরী। তিনি আরো বলেন, আমাদের পরিবারের সদস্য শ্রদ্ধেয় গোলাম মোস্তফা চৌধুরী (দুইবার), গোলাম মাওলা চৌধুরী (মানিক মিয়া- ছয় বার) ও গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী (একবার) অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আমি তাদের সন্তান হিসেবে আগামী নির্বাচনে অত্র ইউনিয়ন ও এলাকাবাসীর সুপারিশে, ডাকে দোয়া ও সমর্থন নিয়ে চৌধুরী বাড়ির সন্তান হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য ইচ্ছাপোষন করেছি। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন নিবেদিত কর্মী। এলাকার সামাজিক উন্নয়নমূলক, ধর্মীয় সকল কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থেকে কাজ করছি। একান্ত সাক্ষাতে তিনি বলেন, বিষ্ণপুর ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করতে চাই। এ এলাকার মানুষের কল্যানে কাজ করার জন্যই আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। তিনি আরো বলেন, দূর্ণীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলের সহযোগিতা চাই।
প্রশ্ন: আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইউনিয়ন পরিষদ-এ কোন্ পদে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চান? উত্তর: গোলাম ইয়াজদানী চৌধুরী (এনাম) আমি এনাম চৌধুরী ১ নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য আগ্রহী।
প্রশ্ন: প্রার্থী হবার ইচ্ছা আপনি কবে থেকে পোষণ করছেন?
উত্তরঃ সত্িযকার অর্থে আমি নির্বাচন করার ইচ্ছা ছিলো না, কিন্তু যখন দেখি আমাদের ইউনিয়নটা গত ১৫ বছর তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি, যা হওয়া উচিৎ ছিল ঠিক তখনই আমার ইউনিয়নের অবহেলিত মানুষের কথা চিন্তা রেখে ইউনিয়নের কিছু একটা করার জন্য চিন্তা আসে, আর কিছু করতে হলে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়া ছাড়া অন্যভাবে করা যাবে না, তাই আমাদের ইউনিয়নের বড়, ছোট, সকলের কথা চিন্তা করেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আশা করছি। আপনি হয়তো জানেন আমার চাচারা বিগত দিনে চেয়ারম্যান হওয়ার মাধ্যমে ৪০-৫০ বছর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মানুষের পাশে ছিলেন এখনোও আমরা বিভিন্ন ভাবে পাশে থাকার চেষ্টা করি যা ইউনিয়ন বাসী যানে। ইউনিয়নবাসী অবশ্যই অবগত আছেন আমাদের পরিবার বিগত দিনে কিভাবে তাদের পাশে ছিলেন।
অপরপক্ষে যখনই সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ হয় তখন জনগণ চাচ্ছে আমি যাতে ইউনিয়ন নির্বাচনে অংশ নেই, তাদের অকৃত্রিম বিশ্বাস ও ভালোবাসা আমাকে সত্যিকার অর্থে মহোহিত করেছে, এবং প্রকৃত পক্ষে দলমত নির্বিশেষে প্রচুর সমর্থক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করে যা ইতিবাচক দিক।
এরই মধ্যে আপনি কি কখনও নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন? না, আমি কখনো সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ গ্রহণ করিনি কিন্তু ১৯৯১ সাল থেকে বিভিন্ন ভাবে স্থানীয় অথবা জাতীয় নির্বাচনে পরিচালনা কমিটির সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম।
প্রশ্ন: আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন? না নির্দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান?
উত্তর: দেখুন আমি যে দলের সাথে জড়িত, ইতিমধ্যে দলীয় চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় ভাবে নির্বাচন হবে না স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন, সুতরাং দলীয়ভাবে করার কোন সুযোগ নাই কিন্তু দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন অবশ্যই পাবো বলে আশা রাখি। আপনি অবশ্যই অবগত আছেন, বর্তমান যুবদল সভাপতি (মানিকুর রহমান মানিক) আমার ছেলে বেলার বন্ধু এবং একসাথে ১৯৯১ সালে ছাত্রদলের সভাপতি ও সেক্রেটারির মাধ্যমে আমাদের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে রাজনৈতিক বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পৃক্ত আছি এবং গত ১৬-১৭ বছরে বিভিন্ন ভাবে দলকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি, যা জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ অবশ্যই অবগত আছেন।
প্রশ্ন: নির্বাচনে নিতান্তই জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্যে বা কেবল পরিচিতি লাভের জন্যে প্রার্থী হতে চান? না বিজয়ী হবার মানসে আঁটঘাঁট বেঁধে নেমেছেন বা নামবেন?
উত্তর: আমি মনে করি নির্বাচিত হওয়ার জন্য নির্বাচনে যাবো। যদি বলেন শুধু পরিচিত জন্য তাহলে বলবো, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কম/বেশী প্রতিটি বাড়ি আমাকে এবং আমাদের পরিবারের সকলকে চেনা জানা আছে, সুতরাং এখানে পরিচিত হওয়ার কিছুই নাই।
প্রশ্ন: নির্বাচনকেন্দ্রিক আপনার পরিকল্পনা কী? সমাজসেবামূলক কাজ কতোটুকু করেছেন বা করবেন? ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন তথা গণসংযোগ শুরু করেছেন?
উত্তর: আমাদের লক্ষ্য খুবই পরিষ্কারÑএকটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও স্বনির্ভর ইউনিয়ন গড়ে তোলা, যেখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে। উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা বা ভবন নয়; উন্নয়ন মানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার। উন্নয়নের প্রধান অগ্রাধিকারসমূহ।
আমি বা আমাদের পরিবার সব সময় সমাজসেবা মুলক কার্যক্রম সবসময় করে থাকি এবং ভবিষ্যতেও করবো।
ভোটারের কাছে যাওয়া শুরু করেছি এবং গনসংযোগ শুরু করেছি।
প্রশ্ন: নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী? নির্বাচনের সুষ্ঠুতার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?
উত্তর: আমি বিশ্বাস করি বর্তমান সরকার প্রধান অংগীকার গণতান্ত্রিক উপায়ে যে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা এবং আমি সম্পূর্ণ আশাবাদী।
প্রশ্ন: এলাকার উন্নয়নে আপনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে চান?
উত্তর: আমাদের ইউনিয়ন শুধু একটি প্রশাসনিক এলাকা নয়Ñএটি আমাদের ঘর, আমাদের পরিচয় এবং আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ। এই ইউনিয়নের উন্নয়নের দায়িত্ব কোনো একক ব্যক্তির নয়; এটি আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব।
প্রশ্ন: উপরোল্লিখিত প্রশ্নগুলোর বাইরে আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে সেটা বলতে পারেন।
উত্তর: আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, সৎ থাকি ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করি, তবে কোনো চ্যালেঞ্জই আমাদের থামাতে পারবে না। আসুন, আমরা এমন একটি ইউনিয়ন গড়ে তুলি যেখানে আমাদের সন্তানরা শিক্ষিত হবে, পরিবারগুলো সুস্থ থাকবে এবং ভবিষ্যৎ হবে উজ্জ্বল।
চলুন, আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাইÑআমাদের ইউনিয়নের জন্য, আমাদের জনগণের জন্য এবং আগামী প্রজন্মের জন্য।
প্রশ্ন: আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরুন।
উত্তর: আমি এনাম চৌধুরী, চাঁদপুর সরকারী কলেজ থেকে পড়ালেখা শেষ করে ঢাকা একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে (সিনিয়র ব্যাস্হাপক হিসাবে দক্ষিন এশিয়ান দেশগুলোর দায়িত্ব নিয়োজিত আছি)। পাশাপাশি আমি আমার ছোট একটি ব্যাবশায়িক প্রতিষ্ঠানে জরিত। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমাদের ইউনিয়নের উপর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি বর্ষিত হোক।