
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাম্প্রতিক এক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সভায় মার্কিন প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, কৃষি, পোল্ট্রি-ডেইরি, প্রাণিসম্পদ ও ফার্মাসিউটিক্যালসহ বিভিন্ন খাতের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। এসব সংবেদনশীল খাতের পরিস্থিতি নিয়ে বাইরের শক্তির বিশেষ নজরদারি দেশের অর্থনৈতিক সংকটের গভীরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
লেখাটিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি সংকট, শিল্পে অগ্নিদুর্ঘটনা, যুবসমাজের দিশাহীনতা এবং বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্থবিরতার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৩.৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসকে ১৯৭৩ সালের পর সর্বনিম্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেখাটিতে বেক্সিমকো ফার্মার ব্যাংক ঋণ, এলসি খোলার জটিলতা ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ও ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব ঘটনাকে কেবল দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে লেখক সন্দেহ প্রকাশ করেছেন; তবে কোনো নাশকতার প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে বলেও লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হলে দেশীয় বাজারে ওষুধের সংকট ও আমদানিনির্ভরতার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে, গত এক বছরে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক পোশাক ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, গ্যাস-বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ ও শ্রমিক অসন্তোষকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটে কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়েছে।
ফিড, ওষুধ ও বাচ্চার দাম বেড়ে যাওয়ায় হাজার হাজার ডেইরি ও পোল্ট্রি খামার বন্ধ হয়েছে বলে লেখাটিতে বলা হয়েছে। সার, সেচ ও ডিজেলের সংকট খাদ্য উৎপাদন কমিয়ে দেশকে খাদ্য আমদানিনির্ভর করে তুলতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।
লেখাটিতে শিক্ষার অভাব, কর্মসংস্থানের সংকট এবং টিকটক-ফেসবুকভিত্তিক সস্তা জনপ্রিয়তার কারণে যুবসমাজের দিশাহীনতার সমালোচনা করা হয়েছে। কারিগরি, তথ্যপ্রযুক্তি ও বাস্তবমুখী শিক্ষায় জোর দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় শিল্প খাতে নিরাপত্তা জোরদার, অগ্নিকাণ্ড ও নাশকতার অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন কমিশন, কৃষি ও খামার খাতে ভর্তুকি, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে অর্থনৈতিক প্রণোদনার সুপারিশ করা হয়েছে। লেখাটির автор উজ্জ্বল হোসাইন।