1. banglaaadi@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. info@www.aadibangla.com : - : AADI BANGLA
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রামপুরে ছুরিকাঘাত করে যুবককে হত্যার চেষ্টা! প্রকাশ্যে আসামী রহমান রাজারগাঁও উদয়ন সংঘের মেধা যাচাই বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন শাহরাস্তির দোয়াভাঙ্গায় সুন্দরবন স্টিল কর্পোরেশনের দ্বিতীয় শাখার উদ্বোধন চাঁদপুর সরকারি কলেজে এইচএসসিতে পাসের হার ৮৫.৪৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৯ জন শাহরাস্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ভরাডুবি, পাসের হার ৪৪.৮৮ শতাংশ মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বাবুরহাটে মেগা ফাইনাল ফুটবল টুর্নামেন্ট খোলা বাথরুমের পাশে তৈরি হচ্ছে ব্রেড-কেক-বিস্কুট, মতলবের কোয়ালিটি বেকারি নিয়ে উদ্বেগ মতলবে প্রথমবারের মতো সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন হাজীগঞ্জে বিএমে সেরা সরকারি মডেল পাইলট, আলিমে জিপিএ-৫-এ আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসা জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নির্মূল সম্ভব নয়: শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক

অন্তরের অশ্রু ও নিঃশব্দ লড়াই

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে
অন্তরের অশ্রু ও নিঃশব্দ লড়াই

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্লাস্টিকের ছাদ বেয়ে চুইয়ে পড়া রোদের আলো রামপদের মুখে এসে পড়ার সময় বেলা অনেকটাই গড়িয়ে গেছে। জ্যৈষ্ঠের তীব্র গরমে ইট-পাথরের শহরের একটি বস্তির ছোট একচালা ঘরে বাতাস চলাচল করছিল না; ঘরের কোণে পুরনো টিনের টেবিল ফ্যানটি ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দে ঘুরলেও তাতে স্বস্তির বদলে যেন গরম বাষ্পই ছড়াচ্ছিল।

রামপদ দিনমজুর। ইট বহন ও নির্মাণকাজ করে তার সংসার চলে। প্রতিদিনের আয়েই প্রতিদিনের খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়। শরীর খারাপ লাগলেও সেদিন কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। স্ত্রী মানসী চালের কৌটো নেড়েচেড়ে দেখেন, তলায় পড়ে আছে সামান্য কয়েক মুঠো চাল।

মানসী রামপদকে কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করলেও তিনি জানান, কাজ না করলে সেদিন ঘরে রান্না হবে না। চার বছরের ছেলে অর্ক বাবার কাছে লজেন্স চায়। রামপদ কাজ শেষে তার জন্য লজেন্স আনার কথা বলে বের হন।

দুপুরে নির্মাণাধীন ভবনে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ইট ও সিমেন্ট বহনের সময় রামপদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। সহকর্মী সনাতন তাকে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে বললেও সংসারের জন্য পুরো মজুরি পাওয়ার প্রয়োজনের কথা জানিয়ে তিনি কাজ চালিয়ে যান। তিন তলার সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি।

সহকর্মীরা মাথায় পানি দিলেও রামপদের জ্ঞান ফেরেনি। প্রচণ্ড গরমে হিট স্ট্রোকের মতো অবস্থায় তার শরীর নিস্তেজ হয়ে যায়। পরে সহকর্মীরা রিকশায় করে তাকে বস্তির ঘরে পৌঁছে দেন। কাজের সর্দার ১০০ টাকা দেন, যা দিয়ে প্রাথমিক কিছু স্যালাইন ও দুটি ট্যাবলেট কেনা হয়।

ঘরে চিকিৎসার জন্য আর কোনো টাকা না থাকায় মানসী অসুস্থ স্বামীর পাশে বসে রাতভর সেবা করেন। রামপদের অবস্থা দেখে তিনি কাঁদতে থাকেন। অর্কও মাকে সান্ত্বনা দিয়ে জানায়, সে আর লজেন্স চাইবে না, শুধু বাবা যেন কাঁদেন না।

সারারাত ঠান্ডা পানির পট্টি দেওয়ার পর ভোরে রামপদের শরীরের উত্তাপ কিছুটা স্বাভাবিক হয় এবং তিনি চোখ মেলে তাকান। মানসী জানান, সেদিন তাকে কাজে যেতে দেবেন না; পাশের বাড়িতে কাজ করে যা পাওয়া যাবে, তা দিয়েই দিন চালানোর চেষ্টা করবেন।

রামপদের অসুস্থতার খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা দেখতে আসেন। সনাতন এক কেজি চাল ও কিছু আনাজ নিয়ে হাজির হন। প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাদের ঘরে আবার রান্নার ব্যবস্থা হয়।

পরদিন রামপদের শরীরে কিছুটা শক্তি ফিরে আসে। অর্ক বাবাকে সুস্থ দেখে লজেন্সের বদলে বাবার সুস্থ থাকাকেই বড় বলে জানায়। দারিদ্র্য ও অভাবের মধ্যেও রামপদ, মানসী ও অর্ক পরস্পরের ভালোবাসা, সহানুভূতি এবং বেঁচে থাকার লড়াইয়ে এগিয়ে চলার প্রত্যয় ধরে রাখে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৬, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট