
নিজস্ব প্রতিনিধি: কচুয়া উপজেলার সাচার ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী রাগদৈল ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় চরম শ্রেণিকক্ষ বা একাডেমিক ভবন সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের এ সমস্যার কারণে রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে স্বাভাবিক পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সংকট নিরসনে দ্রুত নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ অথবা বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইবতেদায়ী থেকে আলিম শ্রেণি পর্যন্ত ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ক্যাম্পাসে একটি তিনতলা ও একটি একতলা পাকা ভবন থাকলেও শিক্ষার্থীদের তুলনায় তা অপ্রতুল। ফলে ইবতেদায়ী শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থীদের পুরোনো ও জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে ক্লাস করতে হচ্ছে।
টিনশেড ঘরগুলোর দরজা-জানালার বেশিরভাগই ভাঙা ও নড়বড়ে। গ্রীষ্মে ঘরের ভেতর অসহনীয় গরমের সৃষ্টি হয়, আর বর্ষায় ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে। এতে স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শিক্ষকদের ভাষ্য, ভবন সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় ছাত্রাবাস, সমৃদ্ধ পাঠাগার ও সাইন্স ল্যাব চালু করা যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পেলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাক্ষেত্রে আরও ভালো করতে পারত।
অবকাঠামোগত সংকট থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও পাসের হার প্রশংসনীয় বলে জানানো হয়েছে। প্রতি বছর দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা সন্তোষজনক ফলাফল করছে। ২০২৫ সালে মাদ্রাসাটির অষ্টম শ্রেণির পাঁচজন মেধাবী শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে অতিরিক্ত ক্লাস এবং মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাঠদান করা হচ্ছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আরিফ বিল্লাহ বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও দক্ষতার কারণে ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। তবে অবকাঠামোগত ও শ্রেণিকক্ষ সংকটই এখন সবচেয়ে বড় অন্তরায়।
অভিভাবক আনোয়ার হোসেন বলেন, মাদ্রাসার পড়াশোনার মান ভালো হলেও টিনশেড ঘরে সন্তানদের কষ্ট হয়। নতুন ভবন হলে পড়ালেখার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী নতুন একাডেমিক ভবন বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।