
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কচুয়া উপজেলার শাসনপাড়া গ্রামের মো. কবির হোসেনের মেয়ে সুরাইয়া আক্তারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মতলব দক্ষিণ উপজেলার আশ্বিনপুর উত্তর বৈদ্য সরকার বাড়ির সুখ মিয়া সরকারের ছেলে আশিকুর রহমানের ২০২৬ সালের ২২ মার্চ পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের আগে সুরাইয়া আক্তার দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর এলাকার সুন্দরপুরে একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতেন।
বিয়ের প্রায় পাঁচ মাস এক দিন পর গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দাউদকান্দি-গৌরীপুর এলাকার দেশ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের (সিজার) মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন সুরাইয়া আক্তার। নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে সামির হোসেন। বিয়ের সময়কাল ও সন্তান জন্মের মধ্যবর্তী সময় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।
এদিকে, সন্তান জন্মের পর প্রথম দিকে স্বামী আশিকুর রহমান নবজাতকের খোঁজখবর নিলেও বর্তমানে মনোমালিন্যের কারণে স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। পাঁচ মাসের মাথায় সন্তান জন্মের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আশিকের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নানা কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে শিশুটির মা সুরাইয়া আক্তার জানান, তাঁর প্রচণ্ড ডায়াবেটিস ছিল, যা তাঁর স্বামী আশিকুর রহমান জানতেন। এ কারণে তিনি মতলবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাও নিয়েছেন। ডায়াবেটিসের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই সন্তান জন্ম হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনা ছাড়া অন্য কোনো বিষয় নেই বলেও জানান সুরাইয়া।
তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর স্বামী সন্তানকে মেনে নিয়েছেন। তবে স্বামীর বোনসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে স্বামী ও সন্তানের কাছ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, আশিকুর রহমান মুঠোফোনে তাঁর এক চাচার সঙ্গে কথোপকথনে বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় কীভাবে সন্তান জন্ম নিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য, বিয়ের তারিখ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।