
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপসহকারী কৃত্রিম প্রজনন কর্মকর্তা মো. ওয়ালী উল্যা সরকার। দেখলে মনে হবে না এত ধন সম্পদের মালিক। তার কার্যালয়ের কর্মকর্তার নিজস্ব কোন বাড়ি না থাকলেও তার রয়েছে তিনতলা আলিশান বাড়ি। তবে কাগজপত্রে তিনি নিজ সম্পদের বিবরণ গোপনে রেখে এবং সরকারি কর ফাঁকি দিয়ে বছরের পর বছর পার করে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এই ব্যাক্তি কথা বলার সময় মিথ্যার আশ্রয় নেয়াকে পছন্দ করেন।
সম্প্রতি তার কার্যালয়ে গিয়ে তার ব্যাক্তিগত সম্পদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসা নানা তথ্য। তবে তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে বারবার মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিজেই আটকে যাচ্ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ওয়ালী উল্যার নিজ বাড়ি কচুয়া উপজেলায়। কিন্তু চাকরির সুবাধে তিনি দীর্ঘ বছর মতলব উত্তর উপজেলায়। চাকরির পাশাপাশি নানাভাবে টাকা কামিয়ে মতলব উত্তর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের খুব নিকটে তৈরী করেছেন তিনতলা বাড়ি। ওই বাড়িতে বর্তমানে একটি সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানসহ ৪জন ভাড়াটিয়া রয়েছে। বাড়ি, ভাড়াটিয়া সহ সবকিছুই রেখেছেন গোপনে। তার কর ফাইলে নেই এসব সম্পদের বিবরণ। পাশাপাশি পারিবারিক তথ্যের মধ্যেও নিয়েছেন মিথ্যার আশ্রয়।
ওয়ালী উল্যা ১৯৯৪ সালে চাকুরীতে প্রথম যোগদান করেন মতলব উপজেলায়। এরপর ২০০১ সালে উপজেলা ভাগ হয়ে সৃষ্ট হয় মতলব উত্তর। তখনও তিনি কর্মরত ছিলেন এখানেই। ২০১০ সালে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়, মতলব উত্তর সৃষ্ট হওয়ার পরেও তিনি একই অফিসে কর্মরত ছিলেন। ২০১২-১৩ দুই বছর ছিলেন ঠাকুরগাঁও। এরপর আবার মতলব উত্তর উপজেলায় শুরু হয় তার কর্মস্থল। নিজ উপজেলা কচুয়া হওয়া সত্তেও টানা এতগুলো বছর একই উপজেলায় কর্মরত থেকে অবশেষে অফিসের পাশেই গড়ে তোলেছেন তিন তলা বিশিষ্ট আলিশান বাড়ি।
তার বর্তমান কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তার কোন বাড়ি না থাকলেও তিনি আলিশান বাড়ির মালিক। তার বিরুদ্ধে রয়েছে আরো অনেক অভিযোগ। এসব বিষয়ে তার সাথে কথায় প্রতিবেদকের। তার ওইসব বক্তব্য সংরক্ষিত। ওইসব অভিযোগ নিয়ে থাকবে ধারাবাহিক প্রতিবেদন।