
নিজস্ব প্রতিনিধি: কিছু মানুষের চলে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের শূন্যতা নয়, একটি কর্মস্থলের প্রাণচাঞ্চল্যকেও চিরদিনের জন্য স্তব্ধ করে দেয়। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের দক্ষ কর্মী, চাঁদপুর শহর প্রতিনিধি ও কম্পিউটার অপারেটর মো. মোস্তফা কামাল খান সুজনের অকালমৃত্যু তেমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ১৮ অক্টোবর রাতে হাসিমুখে অফিসের কাজ শেষ করে সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়া সুজনের নিথর দেহ পরদিন সকালে ফিরে আসার সংবাদে সহকর্মীরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
মাত্র ৪৩ বছরের জীবনে সুজন কর্মঠ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যা প্রকাশের নেপথ্যে তাঁর শ্রম ও দক্ষ অবদান ছিল। তাঁর ব্যবহৃত কম্পিউটার, কর্মক্ষেত্র ও পরিচিত চেয়ার এখন তাঁর অনুপস্থিতির স্মৃতি বহন করবে।
সুজনের মৃত্যুর জন্য পরিবারের কেউ প্রস্তুত ছিলেন না। মৃত্যুর আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি বলেছিলেন, তাঁর কেমন যেন লাগছে এবং ভালো লাগছে না। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলের জন্য তাঁর চলে যাওয়া গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। একইভাবে তাঁর মা, ভাইবোন ও স্বজনেরাও হারিয়েছেন প্রিয়জনকে।
একজন মানুষের মৃত্যুতে কর্মজীবনের অবসান হলেও তাঁর স্মৃতি, ভালোবাসা ও অবদান থেকে যায়। চাঁদপুর প্রেসক্লাব ও দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারের শোক প্রকাশ, সহকর্মীদের শেষ বিদায় ও স্মৃতিচারণে সুজনের দক্ষতা, আন্তরিকতা, কর্মনিষ্ঠা এবং সহকর্মীসুলভ আচরণের কথা উঠে এসেছে।
সুজনের স্ত্রী, তিন সন্তান, মা, ভাইবোন ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের দুঃসময়ে সহযোগিতা করাকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সহকর্মীদের ভাষ্য, সুজনের কর্মব্যস্ত উপস্থিতি ও আন্তরিক কথাগুলো এখন থেকে স্মৃতির অংশ হয়ে থাকবে। তাঁর শ্রমের চিহ্ন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের স্মৃতিময় অধ্যায়ে রয়ে যাবে।