
নিজস্ব প্রতিনিধি: সদ্য ঘোষিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে হাজীগঞ্জ উপজেলায় চরম বিপর্যয় ঘটেছে। সার্বিক ফলাফলে নেমে এসেছে ধস এবং জিপিএ-৫-এর দেখা মিলেছে হাতে গোনা কয়েকজনের। উপজেলার ৯টি কলেজ থেকে মোট ২ হাজার ৭১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ১ হাজার ২০৩ জন এবং ফেল করেছে ১ হাজার ৫১০ জন। উপজেলায় সার্বিক পাসের হার ৪৪.৩৪ শতাংশ (ফেল ৫৫.৬৬%) এবং পুরো উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১৫ জন শিক্ষার্থী।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফলাফলের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এক সময়ের জেলার সেরা প্রতিষ্ঠান হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজের ফলাফলেও এবার বড় ধস নেমেছে।
হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজ: ১ হাজার ২৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫৫৭ জন এবং ফেল করেছে ৭২০ জন। পাসের হার ৪৩.৬২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন।
হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ: ৭৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪০৯ জন পাস করেছে এবং ৩৫৭ জন ফেল করেছে। পাসের হার ৫৩.৩৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন। উপজেলায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি শীর্ষে।
বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজ: ৮৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১ জন এবং ফেল করেছে ৭৫ জন। পাসের হার ১২.৭৯ শতাংশ, যা উপজেলায় সর্বনিম্ন।
নাসিরকোট শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ: ১২৮ জনের মধ্যে ৩০ জন পাস করেছে, ফেল করেছে ৯৮ জন। পাসের হার ২৩.৪৪ শতাংশ।
হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ: ৯৮ জনের মধ্যে ৩০ জন পাস করেছে এবং ৬৮ জন ফেল করেছে। পাসের হার ৩০.৬১ শতাংশ।
ধড্ডা মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ: ১১২ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩৮ জন, ফেল করেছে ৭৪ জন। পাসের হার ৩৩.৯৩ শতাংশ।
হাজীগঞ্জ আইডিয়াল কলেজ অব এডুকেশন: ৩১ জনের মধ্যে ১৫ জন পাস করেছে এবং ১৬ জন ফেল করেছে। পাসের হার ৪৮.৩৯ শতাংশ।
দেশগাঁও ডিগ্রি কলেজ: ১১১ জনের মধ্যে ৫৮ জন পাস করেছে এবং ৫৩ জন ফেল করেছে। পাসের হার ৫২.২৫ শতাংশ।
উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলোর এমন ফলাফলে অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।