
১৫ বছর ধরে আখের রস বিক্রি করে আমিরের জীবনসংগ্রাম, বাবুরহাটে মেটাচ্ছেন তৃষ্ণা। চাঁদপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরহাটে ব্যস্ত সড়কের পাশে ছোট দোকানে আখের রস বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন আমির হোসেন (৩০)।
দোকানের সামনে সাজানো থাকে তাজা আখ বা গেণ্ডারি। পাশে থাকা যন্ত্রে আখ মাড়াই করে গ্লাসে পরিবেশন করা হয় রস। এই ব্যবসাকে জীবিকার প্রধান অবলম্বন হিসেবে বেছে নেওয়ার আগে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নানা কাজ ও ছোটখাটো ব্যবসা করেছেন আমির।
১৫ বছর আগে আখের রস বিক্রি শুরু করেন তিনি। গত পাঁচ বছর ধরে বাবুরহাটে স্থায়ীভাবে ব্যবসা করছেন। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সেখানেই সংসার গড়ে তুলেছেন।
আমির হোসেন জানান, প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ গ্লাস আখের রস বিক্রি হয়। প্রতি গ্লাস ২০ টাকা দরে দিনে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা বিক্রি থাকে। ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী বরফ মিশিয়ে অথবা বরফ ছাড়া রস পরিবেশন করেন তিনি।
আখ ও রস তৈরির যন্ত্র পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পরিবেশনের সময় পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দেন আমির। তিনি বলেন, মানুষ বিশ্বাসের জায়গা থেকে তাঁর কাছে রস খেতে আসেন; সেই বিশ্বাস ধরে রাখাই তাঁর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
দোকানে আসা কয়েকজন ক্রেতার দাবি, গরমের দিনে ঠান্ডা আখের রস তাঁদের ক্লান্তি দূর করে। আমির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে রস তৈরি করেন বলেই তাঁরা নিয়মিত তাঁর দোকানে আসেন।
সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আখের রসের চাহিদা থাকে। মার্চ থেকে জুনের গরমে বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। বর্ষায় বিক্রি কিছুটা আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। শীতকালে ঠান্ডা পানীয়ের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ও ভাটা পড়ে।
একটি মেশিন, কিছু আখ ও পরিশ্রমকে সম্বল করে বাবুরহাটে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন আমির। তাঁর আশা, একদিন এই ছোট ব্যবসা আরও বড় হবে এবং উপার্জনের মাধ্যমে সন্তানদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবেন।