
নিজস্ব প্রতিনিধি: চাঁদপুর শহরের পুরান বাজার এলাকায় ডাকাতিয়া নদীতে ধানের তুষ, ছাই ও ধান সিদ্ধের গরম পানি ফেলে দূষণ সৃষ্টির দায়ে দুটি অটোরাইস মিলকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও নদী বাঁচাতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানোর প্রয়োজন রয়েছে। নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি একটি জনপদের প্রাণ, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম আধার এবং মানুষের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
২৫ অক্টোবর ২০২৬ পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত মেসার্স মনজিল অটো রাইস মিলকে ৫০ হাজার টাকা এবং মেসার্স নিউ মেঘনা অটোরাইস মিলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে নদীতে ফেলা বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও দূষণ বন্ধে মিল কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১-এর সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের দায়ে নেওয়া এ ব্যবস্থা দেখায়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার থাকলেও পরিবেশ ধ্বংস করার অধিকার কারও নেই।
উৎপাদন ও মুনাফার স্বার্থে নদীতে তুষ, ছাই বা অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলা হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নদী, আশপাশের মানুষ, জলজ প্রাণী এবং সামগ্রিক পরিবেশ। পানিদূষণে জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হয়, পানির স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য ও জীবিকার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে।
শুধু জরিমানা আদায় করলেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট মিলগুলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না, নদীতে পুনরায় বর্জ্য ফেলছে কি না এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মানছে কি না—এসব নিয়মিত তদারকিতে আনতে হবে। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে আইন অনুযায়ী আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করার সঙ্গে কারিগরি নির্দেশনা ও সচেতনতাও নিশ্চিত করতে হবে।
ডাকাতিয়া নদী চাঁদপুরের পরিবেশ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নদীটি দূষণমুক্ত রাখতে প্রশাসন, শিল্পমালিক, স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিয়মিত নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ উদ্যোগকে ধারাবাহিক করতে হবে। নদী বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, আর প্রকৃতি বাঁচলে মানুষ বাঁচবে।