
নিজস্ব প্রতিনিধি: কোনো উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়াই প্রশাসনের দায়িত্বের শেষ কথা নয়; বরং উৎসব-পরবর্তী মূল্যায়নের মাধ্যমে অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে ভবিষ্যতের প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করাই হওয়া উচিত দায়িত্বশীল প্রশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সেই বিবেচনায় শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন শেষে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত মূল্যায়ন সভাটি বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে।
গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং ভবিষ্যতে উৎসবের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা আরও জোরদার করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।
চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক উদ্যোগটিকে প্রশংসনীয় ও ব্যতিক্রমী বলে উল্লেখ করেছেন। তবে সারা দেশে পূজা-পরবর্তী এমন মূল্যায়ন সভা আয়োজনের বিষয়ে সরকারের কোনো নির্দেশনা রয়েছে কি না, সে প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। নির্দেশনা থাকলে এটি সরকারি সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন; আর নির্দেশনা না থাকলে জেলা প্রশাসনের নিজস্ব উপলব্ধি, দায়িত্ববোধ ও উদ্যোগ হিসেবে এর স্বাতন্ত্র্য রয়েছে।
এ ধরনের সভায় শুধু সাফল্য নয়, কোথায় ঘাটতি ছিল, কোন ব্যবস্থায় উন্নতি প্রয়োজন, কোন সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে—এসব বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে। জেলা প্রশাসক এবারের পূজায় সিসিটিভি ক্যামেরা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও স্বেচ্ছাসেবকদের নজরদারির কথা উল্লেখ করেছেন। এসব ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি উন্নতির সুযোগগুলোও চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা সামগ্রিক নাগরিক নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সঙ্গে যুক্ত। তাই প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময় ও সমন্বয় জরুরি।
তবে সভার সার্থকতা কেবল আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। উত্থাপিত মতামত, সুপারিশ ও সমস্যাগুলো নথিভুক্ত করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। কোন সুপারিশের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো এবং পরবর্তী উৎসবের আগে কী প্রস্তুতি প্রয়োজন, সে বিষয়ে অনুসরণমূলক কার্যক্রম থাকলেই মূল্যায়ন সভা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়িয়ে কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠবে।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের প্রকৃত মূল্যায়ন নির্ভর করবে দুটি বিষয়ের ওপর—এটি সরকারি নির্দেশনার অংশ কি না এবং সভায় আলোচিত বিষয়গুলোর কতটা বাস্তবায়ন হয়। উদ্যোগটি নিয়মিত মূল্যায়ন ও কার্যকর পদক্ষেপের ধারায় পরিণত হলে দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব আয়োজনেও এটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।