
নিজস্ব প্রতিনিধি: চাঁদপুরে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে পদ্মা-মেঘনা নদীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে আইন অমান্য করে ইলিশ শিকারের দায়ে ৬৪৬ জেলেকে আটক করেছে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স এবং নৌ পুলিশ। তাদের মধ্যে টাস্কফোর্সের অভিযানে আটক ১৮৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।
নৌ পুলিশের অভিযানে আটক ৪৬৩ জনের মধ্যে ১২০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩৪৩ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও চাঁদপুর নৌ থানা থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
৮ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে ২৯ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এ সময়ে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স ২৩৮টি অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে আটক ১৮৩ জেলেকে ৭২টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়। জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ২০০ টাকা। অভিযানে ২ দশমিক ৭৫৩ টন ইলিশ এবং ১২ লাখ ১ হাজার ৯৯ মিটার জাল জব্দ করা হয়। জব্দ জালের আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, এসব ঘটনায় ১৬১টি মামলা হয়েছে। জব্দ জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে এবং ইলিশ বিধি অনুযায়ী স্থানীয় দুস্থ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের অভিযানে আটক ৪৬৩ জনের মধ্যে ১২০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ৩৪৩ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। নৌ পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দুটি মামলাসহ মোট ১৩২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমগীর হোসেন জানান, জব্দ করা ৩০ লাখ ৯০ হাজার ৫৮৫ মিটার কারেন্ট জাল মামলার আলামত হিসেবে সংরক্ষণের পর আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। এ ছাড়া ৭৭টি মাছ ধরার নৌকা জব্দ রয়েছে। উদ্ধার করা ১ দশমিক ৩২০ টন ইলিশ স্থানীয় দুস্থ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
২৯ অক্টোবর দিনগত রাত ১২টার পর থেকে জেলার নিবন্ধিত প্রায় ৪৪ হাজার জেলে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ ধরতে পদ্মা-মেঘনায় নেমেছেন।